বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ মাসের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষই মারধর ও শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, গত বুধবার বিকালে শিশু ওয়ার্ডে নিহান নামের পাঁচ মাসের একটি শিশু মারা যায়। শিশুটি বগুড়া শহরের সেউজগাড়ি এলাকার মো. খোকনের ছেলে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত নিহানকে গত সোমবার সকালে ভর্তি করা হয়েছিল। বুধবার দুপুরের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বিকালে শিশুটি মারা গেলে চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ তোলেন স্বজনরা। এ সময় তাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
স্বজনদের অভিযোগ
শিশু নিহানের বাবা মো. খোকন বলেন, তার ছেলের অবস্থার অবনতি হলে তার বোন কয়েকবার নার্সদের ডাকাডাকি করেন; কিন্তু কেউ সঠিক সময়ে আসেননি। তার ছেলে মারা যাওয়ার পর এক চিকিৎসক এলে ক্ষোভ থেকে তার বোন ওই চিকিৎসককে ধাক্কা দেয়। এরপর ইন্টার্ন চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা তাদের মারধর করেন। এছাড়া কয়েকজন স্বজনকে আটকে রাখা হয়।
চিকিৎসকদের দাবি
তবে চিকিৎসকদের দাবি, মৃত শিশুর স্বজনরা প্রথমে দায়িত্বরত নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং তার গায়ে হাত তোলেন। এমনকি তার মুখের নেকাব সরানোর চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর রাতে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুচলেকা দিয়ে শিশুর স্বজনেরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
ইন্টার্নদের কর্মবিরতি
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাত ৯টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন শজিমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। তারা বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধনও করেন। মানববন্ধন চলাকালে প্রায় আধা ঘণ্টা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়। তবে হাসপাতালের অন্যান্য সেবা চালু রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
চার দফা দাবি
মানববন্ধনে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো: চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে সিসিটিভি স্থাপন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
শজিমেক হাসপাতালে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. আফসারুল হাবিব রোজ বলেন, হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী থাকে। রোগীদের সঙ্গে অতিরিক্ত স্বজনও অবস্থান করেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন বলেন, কোনো ধরনের হামলাই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে প্রাথমিকভাবে তারা জেনেছেন, শিশুর এক স্বজন প্রথমে চিকিৎসকের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর এ মোর্শেদ জানিয়েছেন, কর্মবিরতি চলাকালে অতিরিক্ত চিকিৎসক দিয়ে সেবা দেওয়া হয়েছে। ইন্টার্নদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা রাত থেকে কাজ করবেন।



