পায়ের যেসব লক্ষণ বিপদের সংকেত, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে সাবধান
পায়ের লক্ষণে সাবধান: দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার বিপদ

দৈনন্দিন ব্যস্ততায় এখন অনেকের দিনের বড় একটি অংশ কেটে যায় বসে কাজ করেই। অফিসের ডেস্ক, গাড়ির সিট বা বাসার সোফায় টানা দীর্ঘ সময় কাটানো অনেকের জন্যই সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকার কারণে পায়ের রক্ত চলাচল কমে যেতে পারে, যা শরীরে নানা জটিলতার ঝুঁকি তৈরি করে।

কেন বিপজ্জনক দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা?

মানবদেহ স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় থাকার জন্য উপযোগী। হাঁটা বা নড়াচড়ার সময় পায়ের পেশি রক্তকে স্বাভাবিকভাবে হৃদপিণ্ডের দিকে প্রবাহিত হতে সহায়তা করে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ স্থির অবস্থায় বসে থাকলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং নিচের অংশে রক্ত জমতে শুরু করতে পারে। ফলে শরীর কিছু সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে, যেগুলো অবহেলা করা ঠিক নয়।

পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া

এর অন্যতম লক্ষণ হলো পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া। দিনের শেষে জুতা টাইট লাগা বা মোজা খোলার পর গোড়ালিতে দাগ দেখা গেলে সেটি রক্ত সঞ্চালনের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শিরার ওপর চাপ বাড়ে, ফলে শরীরের টিস্যুতে তরল জমে এই অবস্থা তৈরি হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পায়ে নীলচে বা আঁকাবাঁকা শিরা

এছাড়া পায়ে নীলচে বা আঁকাবাঁকা শিরা দেখা দেওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। অনেকে এটিকে শুধুই সৌন্দর্যগত সমস্যা মনে করলেও এটি শিরার দুর্বলতা বা দীর্ঘমেয়াদি রক্ত চলাচলজনিত সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এর সঙ্গে পায়ে ভারী অনুভূতি বা ব্যথাও দেখা দিতে পারে।

পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ অনুভূতি

অনেকক্ষণ বসে থাকার পর পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ অনুভূতি হওয়াও রক্ত প্রবাহ কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাবে স্নায়ুর ওপর প্রভাব পড়লে এমন উপসর্গ দেখা দেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গুরুতর ঝুঁকি: ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকি হলো ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস, যেখানে পায়ের গভীর শিরায় রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। এই জমাট রক্ত শরীরের অন্য অংশে, বিশেষ করে ফুসফুসে পৌঁছালে তা প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়

তবে কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। নিয়মিত বিরতি নিয়ে হাঁটা, বসে থাকা অবস্থায় পা নড়াচড়া করা, পা ক্রস করে না বসা এবং সঠিকভাবে বসার অভ্যাস শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে। শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো সময়মতো গুরুত্ব দেওয়া ভবিষ্যতের বড় সমস্যা এড়াতে সহায়ক হতে পারে।