টাটকা ফলের রস শিশুর জন্য উপকারী হলেও ভুল পদ্ধতিতে খাওয়ালে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফলের রসে চিনি বা মধু মিশিয়ে বা খালি পেটে খাওয়ালে শিশুর ওজন দ্রুত বাড়ে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়।
গবেষণায় কী উঠে এসেছে?
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ফলের রস ভুল পদ্ধতিতে খাওয়ালে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে শিশুদের ফলের রসে চিনি বা মধু মিশিয়ে খাওয়ানো হয় বা সকালে খালি পেটে খাওয়ানো হয়, তাদের ওজন দ্রুত বাড়ে এবং ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ফাইবারের গুরুত্ব ও ফলের রসের প্রভাব
ফল গোটা খেলে যতটা ফাইবার শরীরে প্রবেশ করে, তা ব্লেন্ড করে খেলে ফাইবারের মাত্রা অনেকটাই কমে যায়। আপেল, আঙুর, পেয়ারা, শসা, স্ট্রবেরিজাতীয় ফলে ক্যারোটিনয়েড, ফ্লাভোনয়েড থাকে যা উপকারী। কিন্তু খোসা ছাড়িয়ে রস করলে এসব উপাদানের পরিমাণ কমে যায় এবং ফাইবারের মাত্রাও কমে। ফাইবার কমে যাওয়ায় ফলের প্রাকৃতিক চিনি (ফ্রুক্টোজ) রক্তে মিশলেই শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।
খালি পেটে ফলের রসের ক্ষতি
দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকার পর শিশুকে ফলের রস খাওয়ালে তা দ্রুত ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত এমন করলে শরীরে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ তৈরি হয়, যা পরে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের প্রধান কারণ হয়ে ওঠে। এক গ্লাস রস তৈরি করতে একাধিক ফলের প্রয়োজন হয়, যার ফলে ফ্রুক্টোজ লিভারে গিয়ে হজমপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায় এবং ক্যালোরির মাত্রা বাড়ায়।
বিকল্প উপায় ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
শিশু যদি গোটা ফল খেতে না চায়, তাহলে ফলের রস না ছেঁকে শাঁসসমেত স্মুদি বানিয়ে দিন। এতে ফাইবারের মাত্রা ঠিক থাকবে। ফলের রস বা স্মুদির সঙ্গে টক দই, চিয়া বীজ, বাদাম বা ড্রাই ফ্রুটস মিশিয়ে দিলে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যুক্ত হবে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে দেবে না।
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের নির্দেশিকা
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিশুর বয়স এক বছরের কম হলে কোনোভাবেই ফলের রস খাওয়ানো যাবে না। ১-৬ বছর বয়সে দিনে আধ গ্লাস বা তারও কম ফলের রস খাওয়াতে পারেন। প্যাকেটবন্দি ফলের রস বা ‘নো অ্যাডেড সুগার’ লেখা ফলের রসও শিশুকে দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে থাকা প্রিজারভেটিভ শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।



