ডায়াবেটিক রোগীদের ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাবারের গুরুত্ব
রমজান মাসে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ইফতারের সময় সঠিক খাবার নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইফতারে ভুল বা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করলে রক্তের শর্করার ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। এই অবস্থা হাইপারঅসমোলার কোমা বা কিটো অ্যাসিডোসিসের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা জীবনঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
ইফতারে কী ধরনের খাবার উপযোগী?
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ইফতারের খাবার সহজপাচ্য ও শক্তির ভালো উৎস হতে হবে। পরিবারের সদস্যদের বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আয়োজন করতে হবে। ছোটদের জন্য প্রোটিনজাতীয় খাবার বেশি রাখা উচিত, অন্যদিকে প্রবীণদের জন্য তাদের শারীরিক সীমাবদ্ধতা অনুযায়ী খাবার নির্বাচন করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, কিডনিজনিত জটিলতা থাকলে ডাল বা ডাল দিয়ে তৈরি ইফতারি এড়িয়ে চলা ভালো।
পানীয় হিসেবে কী গ্রহণ করবেন?
চিনিযুক্ত শরবত বা কৃত্রিম স্বাদযুক্ত পানীয় সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা উচিত। কারণ এগুলো রক্তের শর্করা দ্রুত বাড়িয়ে দেয় এবং কিছুক্ষণ পরই তা হঠাৎ করে কমে যেতে পারে, যার ফলে ক্লান্তি ও মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। পরিবর্তে বাড়িতে তৈরি চিনিবিহীন ফলের রস যেমন পেঁপে, বেল, তরমুজ, আনারস বা মাল্টার জুস পান করা যেতে পারে। এছাড়া সুগার ফ্রি মিল্কশেক বা টক দইয়ের লাচ্ছিও ভালো বিকল্প।
ইফতারে খাওয়ার জন্য উপযুক্ত খাবার
- খেজুর: উচ্চ ক্যালরি ও ফাইবারযুক্ত এই ফল ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। ইফতারে দুটি খেজুর খাওয়া যেতে পারে।
- ফল: চিবিয়ে খেতে হয় এমন ফল যেমন আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, বরই, তরমুজ ইত্যাদি ১০০-১৫০ গ্রাম পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।
- প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার: একটি সেদ্ধ ডিম, ক্যাশোনাট সালাদ বা অল্প পরিমাণে সেদ্ধ ছোলা বা ছোলার সালাদ রাখুন। এই প্রোটিন সারা দিনের ক্লান্ত পেশিগুলোকে সতেজ করতে সাহায্য করবে।
ইফতার দুই ভাগে খাওয়ার পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা ইফতার দুই ভাগে খাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রথমে পানীয়, ফল ও সেদ্ধ ডিম কুসুমসহ খেয়ে নামাজের বিরতি নেওয়া যেতে পারে। এতে শরীর কিছু শক্তি পাবে এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমবে। পরে চিড়া-দই বা দুধের সঙ্গে একটি কলা, রুটির সঙ্গে হালিম বা মাংস ও সবজি, চিকেন বা ফিশ গ্রিলের সঙ্গে রুটি ও সালাদ খাওয়া যেতে পারে। খাবারের পরিমাণ বয়স, ওজন, উচ্চতা ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত
ভাজাপোড়া খাবার যেমন জিলাপি, পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ, নিমকি, পাকোড়াসহ ডালের বেসন দিয়ে তৈরি খাবার সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা উচিত। এগুলো গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বৃদ্ধিসহ নানা জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের পরামর্শ অনুযায়ী এই তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে।
