ওজন কমানোর পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অ্যাস্ট্রাজেনেকার নতুন ওষুধ
ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা তাদের পরীক্ষামূলক ওবেসিটি পিল 'ইলেকোগ্লিপ্রন' নিয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেছে। দ্বিতীয় ধাপের (মিড-স্টেজ) ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, এই পিল সেবন করে রোগীরা ২৬ সপ্তাহে গড়ে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছেন।
দিনে একবার সেবনযোগ্য এই ওষুধটির ট্রায়াল সফল হওয়ায় স্থূলতার ওষুধের বিশ্ববাজারে অ্যাস্ট্রাজেনেকা এক ধাপ এগিয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এবার ওষুধটির চূড়ান্ত বা শেষ ধাপের ট্রায়াল শুরু হতে যাচ্ছে।
ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল
অ্যাস্ট্রাজেনেকার তথ্য অনুযায়ী, 'ইলেকোগ্লিপ্রন' নামের এই পরীক্ষামূলক বড়িটি গবেষণাকালীন সময়ে ওজন কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। সর্বোচ্চ ডোজের ওষুধ সেবনকারী অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে:
- ২৬ সপ্তাহে ওজন কমেছে ১০.৫ শতাংশ
- ৩৬ সপ্তাহে ওজন কমেছে ১১.৮ শতাংশ
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওজন কমার এই ধারা অব্যাহত ছিল এবং পুরো ট্রায়াল জুড়েই টেকসই ফলাফল লক্ষ্য করা গেছে।
চূড়ান্ত ধাপের ট্রায়াল
চূড়ান্ত ধাপের ট্রায়ালের প্রস্তুতিগত ফেব্রুয়ারিতে প্রাথমিক ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর এবার ওষুধটিকে চূড়ান্ত ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। এই ট্রায়ালে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন এমন ৩১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অংশ নেন, যাদের অনেকেরই ওজনজনিত অন্তত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল। সর্বোচ্চ ডোজ নেওয়া রোগীদের প্রায় ৮৯ শতাংশই অন্তত ৫ শতাংশ ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছেন, যা এই গবেষণার একটি বড় লক্ষ্য ছিল।
বাজারে প্রতিযোগিতা
এই সাফল্যের ফলে ওজন কমানোর ওষুধের বাজারে নভো নরডিস্ক, ইলাই লিলি এবং রোশের মতো বিশ্বখ্যাত ফার্মাসিউটিক্যালস জায়ান্টগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামল অ্যাস্ট্রাজেনেকা। দ্রুত বর্ধনশীল এই বৈশ্বিক বাজারে আধিপত্য বিস্তারের দৌড় এখন আরও তীব্র হয়ে উঠল।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
গবেষণায় দেখা গেছে, ওষুধটি সেবনের ফলে সাধারণত গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বা পরিপাকতন্ত্রজনিত কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে—বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও বমি। সর্বোচ্চ ৭৫ মিলিগ্রামের ডোজের ক্ষেত্রে:
- ৫৫ শতাংশ রোগীর বমি বমি ভাব হয়েছে
- ৪১ শতাংশ রোগীর কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিয়েছে
- ৩৫ শতাংশ রোগীর ডায়রিয়া হয়েছে
- ২৭ শতাংশ রোগীর বমি হয়েছে
তবে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও রোগীরা ওষুধ সেবন বন্ধ করে দেননি এবং ট্রায়াল ছেড়ে যাওয়ার হার ছিল খুবই কম।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর
টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ওপর করা পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, পিলটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সফল হয়েছে। সর্বোচ্চ ডোজে অংশ নেওয়া ডায়াবেটিস রোগীরা ২৬ সপ্তাহে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ ওজন কমাতে পেরেছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
২০২৩ সালে চীনের 'ইকোজিন' নামক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার চুক্তির বিনিময়ে এই 'ইলেকোগ্লিপ্রন' পিলের লাইসেন্স নিয়েছিল অ্যাস্ট্রাজেনেকা। প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই ওষুধটিকে স্থূলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, কিডনি ও হৃদরোগের মতো ওজনজনিত অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা যাবে।



