অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে বিশেষ সাক্ষাৎকার
অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের জীবন ও স্বাস্থ্য সাক্ষাৎকার

আনিসুল হক: আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি ক্রাউন সিমেন্ট অভিজ্ঞতার আলোয় আয়োজনে। আজ আমরা পেয়েছি জাতীয় অধ্যাপক ডক্টর এ কে আজাদ খানকে, যিনি স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসা গবেষক ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি। স্যার, কেমন আছেন?

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

এ কে আজাদ খান: ১৯৪১ সালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার কৃষ্ণকাঠী গ্রামে আমার জন্ম। প্রাথমিক স্কুল পাদ্রীশিবপুরে, যেখানে আমি ক্লাস টুতে ভর্তি হই। আমার বাবা মৌলভী ফজলুর রহমান খান ও মা ফখরুন্নেসা খাতুন গ্রামেই থাকতেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা

মাধ্যমিক পড়েছি সেন্ট আলফ্রেডস স্কুলে, যা মিশনারি স্কুল। ১৯৫৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করে ঢাকা কলেজে ভর্তি হই। সেখানে কবির চৌধুরী, আবদুল মওদুদ স্যারদের মতো শিক্ষক ছিলেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ও এফসিপিএস করি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অক্সফোর্ডে গবেষণা ও ওষুধ আবিষ্কার

১৯৭২ সালে কমনওয়েলথ ফেলোশিপে অক্সফোর্ডে যাই। সেখানে ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজের ওপর গবেষণা করে ল্যানসেটে পেপার প্রকাশ করি। আমরা আবিষ্কার করি যে সালফাপিরিডিন অংশটি টক্সিক, আর সালিসিলিক অ্যাসিডই কার্যকরী উপাদান। এই আবিষ্কারের ফলে বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ তৈরি হয়, যা আমরা পেটেন্ট না করে মানবতার স্বার্থে উন্মুক্ত রাখি।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি ও বারডেম

আমার স্ত্রী ডক্টর কিশোয়ার আজাদ ডক্টর ইব্রাহিমের মেয়ে। ডায়াবেটিক সমিতির সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত থাকলেও প্রশাসনে আসিনি। ১৯৮৯ সালে ডক্টর ইব্রাহিমের মৃত্যুর পর সংগঠনে সংকট দেখা দেয়। তখন আমি দায়িত্ব নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখি। বর্তমানে বারডেম, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক সেন্টার, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজ—সবই সফলভাবে চলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ধর্মভিত্তিক উদ্যোগ

ডায়াবেটিস টাইপ ২-এর ৭০-৮০% প্রতিরোধযোগ্য। আমরা ইসলামিক খুতবায় স্বাস্থ্যবার্তা অন্তর্ভুক্ত করে ৪৫% ডায়াবেটিস কমিয়েছি, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। এই গবেষণা আমেরিকান জার্নাল অব মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশিত এবং ডব্লিউএইচও তাদের ওয়েবসাইটে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

সরকারের জন্য পরামর্শ

স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ করে আট ভাগে ভাগ করা জরুরি। শিক্ষক পদগুলো ট্রান্সফারেবল না করে ডিপার্টমেন্টভিত্তিক করা উচিত।

সবার জন্য তিনটি করণীয়

প্রথম: শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন। দ্বিতীয়: অতিরিক্ত আহার না করে ডায়েট প্যাটার্ন ঠিক রাখুন। এই দুইটি মেনে চললে ডায়াবেটিস ৮০% প্রতিরোধ সম্ভব। তৃতীয়: নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

আনিসুল হক: স্যার, আপনার অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। সবাই ভালো থাকবেন।