গিনেস রেকর্ডধারী প্রথাব মুনিয়ান্ডি: যার মুখে ৪২টি দাঁত
আপনি কি কখনো নিজের ঝকঝকে দাঁতগুলো গুনে দেখেছেন? সাধারণত একজন মানুষের মুখে ৩২টি স্থায়ী দাঁত থাকে। কিন্তু বিশ্বে এমন ব্যক্তিও আছেন, যাদের দাঁতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। আজ আমরা এমনই একজন ব্যক্তির গল্প শুনব, যিনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পেয়েছেন তাঁর অসাধারণ দাঁতের জন্য।
প্রথাব মুনিয়ান্ডির অজানা রেকর্ড
প্রথাব মুনিয়ান্ডি নামের এই ব্যক্তি নিজেই জানতেন না যে তাঁর মুখে এতগুলো দাঁত আছে। ২০২১ সালে একদিন পরিবারের সঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় তিনি প্রথম অনুভব করেন যে তাঁর দাঁত সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। সবাই মিলে গুনে দেখা যায়, তাঁর মুখে ৩৮টি দাঁত বিদ্যমান। এরপর ডেন্টিস্টের পরামর্শে এক্স-রে করানো হলে মাড়ির ভেতর আরও ৪টি লুকানো দাঁত ধরা পড়ে। ২০২৩ সালের মধ্যে সেই দাঁতগুলোও বেরিয়ে আসে এবং তাঁর মোট দাঁতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪২টিতে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী, তিনি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দাঁতের মানুষ হিসেবে স্বীকৃত।
হাইপারডনশিয়া: বাড়তি দাঁতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
বিজ্ঞানের ভাষায় এই বাড়তি দাঁত থাকাকে হাইপারডনশিয়া বলা হয়। এটি মূলত জিনগত বা দাঁত তৈরির কোষগুলোর অতিরিক্ত সক্রিয়তার ফল। মায়ের গর্ভে থাকাকালীন ডেন্টাল ল্যামিনা নামক টিস্যু থেকে দাঁত তৈরি হয়, এবং কখনো কখনো এই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত দাঁতের কুঁড়ি সৃষ্টি হতে পারে।
এই অবস্থা সাধারণত সমস্যাযুক্ত নয়, যদি না এটি দাঁত ব্রাশ, মাড়ির রোগ বা খাবার চিবানোতে বাধা সৃষ্টি করে। প্রথাবের ক্ষেত্রে, তাঁর দাঁতগুলো সোজাভাবে উঠেছে, তবে দাঁত ব্রাশ করতে সামান্য বেশি সময় লাগে। তিনি নিজে না বললে কেউ টেরও পায় না যে তাঁর মুখে এতগুলো দাঁত আছে।
২০১১ সালের চমকপ্রদ ঘটনা: ৮১টি দাঁতের মেয়ে
প্রথাব শুধু পুরুষদের মধ্যে রেকর্ড গড়েছেন, কিন্তু ২০১১ সালের একটি ঘটনা আরও বিস্ময়কর। ১১ বছর বয়সী এক ছোট্ট মেয়ের মুখে পাওয়া গিয়েছিল গুনে গুনে ৮১টি দাঁত। একটি দুধদাঁত পড়ার পর সামান্য সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর এক্স-রে করে এই বিশাল সংখ্যা ধরা পড়ে। ডাক্তাররা সতর্কতার সঙ্গে তার চিকিৎসা করেছিলেন, যাতে চোয়ালের কোনো ক্ষতি না হয়। এই ঘটনাটিও হাইপারডনশিয়ার একটি চরম উদাহরণ, যা প্রায়শই জিনগত সিনড্রোমের সাথে যুক্ত।
বাড়তি দাঁতের কারণ ও প্রভাব
হাইপারডনশিয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করতে পারে:
- জিনগত প্রবণতা: পরিবারে যদি এমন ঘটনা থাকে, তবে এটি বংশপরম্পরায় ছড়াতে পারে।
- দাঁতের কুঁড়ি বিভাজন: কখনো কখনো একটি দাঁতের কুঁড়ি দুই ভাগ হয়ে যায়, ফলে দুটি যমজ দাঁত গজায়।
- বিশেষ জিনগত রোগ: কিছু সিনড্রোমের কারণে অসংখ্য দাঁত তৈরি হতে পারে, যেমন ৮১টি দাঁতের মেয়েটির ক্ষেত্রে।
সামগ্রিকভাবে, বেশি দাঁত হওয়াটা কোনো জাদুকরী ব্যাপার নয়, বরং এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ কোষগুলোর অতিরিক্ত কার্যকলাপের ফল। যদি এই দাঁতগুলো কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করে, তবে সেগুলো রেখে দেওয়াই উত্তম।
