ফ্যাটি লিভার রোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগ প্রায়শই দীর্ঘদিন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই শরীরে বিকশিত হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে চোখের পরিবর্তন লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। লিভার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বের করে এবং খাদ্য থেকে পুষ্টি গ্রহণে সহায়তা করে। ফ্যাটি লিভার হলে এই স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। গবেষণা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ বা উল্টানো সম্ভব।
চোখে দেখা যেতে পারে ৫টি নীরব লক্ষণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিভার সমস্যা বাড়তে থাকলে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে চোখে প্রভাব পড়ে। নিচে চোখে দেখা যেতে পারে এমন পাঁচটি লক্ষণ তুলে ধরা হলো:
১. চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিসের লক্ষণ)
লিভারে চর্বি জমে বিলিরুবিন ঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত না হলে চোখ হলুদ হয়ে যায়। এটি সাধারণত লিভারের গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. চোখ শুষ্ক ও জ্বালাভাব
লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে প্রদাহ ও বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। এর প্রভাব চোখে পড়ে, ফলে চোখ শুষ্ক ও অস্বস্তিকর অনুভূত হয়।
৩. চোখের নিচে কালো দাগ বা ক্লান্ত চেহারা
লিভারের সমস্যা থাকলে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দেখা দেয়, যা চোখের নিচে কালো দাগ হিসেবে প্রকাশ পায়। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও এই সমস্যা থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
৪. চোখের চারপাশে ফোলা ভাব
বিপাকীয় সমস্যা বা শরীরে পানি জমার কারণে চোখের চারপাশ ফুলে যেতে পারে। এটি লিভারজনিত সমস্যার সম্ভাব্য লক্ষণ।
৫. ঝাপসা দেখা (কিছু ক্ষেত্রে)
ফ্যাটি লিভার সাধারণত ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। কিছু ক্ষেত্রে চোখে ঝাপসা দেখা দেয়, যা অন্যান্য শারীরিক জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে।
কেন ফ্যাটি লিভার অনেক সময় ধরা পড়ে না
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যাটি লিভারের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ না থাকায় এটি প্রায়শই শনাক্ত হয় না। সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় হঠাৎ করে এটি ধরা পড়ে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ, অনিয়মিত জীবনযাপন, ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
অন্যান্য সাধারণ লক্ষণ
- অতিরিক্ত ক্লান্তি
- পেটের অস্বস্তি
- ওজন বৃদ্ধি
- ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স
ঝুঁকিতে কারা বেশি
- স্থূলতা
- ডায়াবেটিস
- হরমোনজনিত সমস্যা
- অলস জীবনযাপন
- অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড ও চিনি গ্রহণ
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
চোখ বা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে চোখ হলুদ হয়ে গেলে দ্রুত পরীক্ষা করা জরুরি।
প্রতিরোধের উপায়
- সুষম খাদ্যাভ্যাস
- নিয়মিত ব্যায়াম
- চিনি ও অ্যালকোহল কমানো
- সুস্থ ওজন বজায় রাখা
সূত্র: এনডিটিভি



