সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বে অবহেলার ঘটনা নতুন নয়। তবে রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে এমন ঘটনা ঘটেছে, যা নজর কেড়েছে সবার। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোহাম্মদ সামির তার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে আসেন।
ঘটনার বিবরণ
মোহাম্মদ সামির জানান, সকাল ১০টায় তিনি তার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান গাইনি ডাক্তার দেখাতে। সেখানে গিয়ে দেখেন জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি ডা. সালমা উপস্থিত নেই। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ডা. সালমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন সকাল ১১টা ৪ মিনিটে। কিন্তু তিনি সরাসরি তার চেম্বারে না গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনিসুল হোসেনের অফিসে চলে যান।
দুপুর ১২টা বাজলে মোহাম্মদ সামির ওই অফিসে গিয়ে ডা. সালমাকে জানান, রোগীরা অপেক্ষা করছেন। ডাক্তার বলেন তিনি আসছেন, কিন্তু বসেই থাকেন। পরে আরও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে কোনো চিকিৎসা না পেয়ে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
ফেসবুকে প্রতিবাদ
ঘটনার পর মোহাম্মদ সামির দুপুর ১২টায় গাইনি ডাক্তারের বন্ধ অফিসের ছবিসহ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, ‘সকাল ১০টায় আমার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলাম, ডাক্তার নেই। ১১টা ৪ মিনিটে এলেন, কিন্তু চেম্বারে না গিয়ে অন্য অফিসে চলে গেলেন। দুপুর ১২টায় বললাম রোগীরা অপেক্ষা করছে, তিনি আসছেন বলে বসে রইলেন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে এলাম।’ তিনি দায়িত্বে অবহেলাকারী ডাক্তারদের এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বদলি করার দাবি জানান।
প্রতিদিনের ভোগান্তি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও রোগী দেখতে অনীহার কারণে প্রতিদিন রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। অনেকে অপেক্ষা করে ডাক্তার না পেয়ে রোগী নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
মোহাম্মদ সামির মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদককে আরও জানান, শুধু তিনি নন, আরেকজন স্বামীও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তার না পেয়ে চলে গেছেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্য
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনিসুল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সাংবাদিককে জবাব দিতে বাধ্য নই।’ তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।



