ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার তানসিভ জুবায়ের পেলেন 'শ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা' রাষ্ট্রীয় পুরস্কার
মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের 'শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা' হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুরস্কার পেয়েছেন। 'জরুরি সেবা' ক্যাটাগরিতে তিনিসহ মোট ছয়জন চিকিৎসককে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ
আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এক বিশেষ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাতচন্দ্র বিশ্বাসসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তানসিভ জুবায়েরের পেশাগত জীবন
তানসিভ জুবায়ের (৩৫) ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। পরে ৩৫তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৭ সালের ২ মে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আছেন।
ভাঙ্গা উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার উল্লেখযোগ্য উন্নতি
দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছরের ব্যবধানে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির বহির্বিভাগে রোগী বেড়েছে ১২ শতাংশ, অন্তর্বিভাগে ৫৯ শতাংশ। জরুরি বিভাগে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ১৩৫ শতাংশ এবং স্বাভাবিক প্রসব বেড়েছে ৭৩ শতাংশ। এই উন্নতি তাঁর নেতৃত্ব ও পরিশ্রমের ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তানসিভ জুবায়েরের প্রতিক্রিয়া
পুরস্কার প্রাপ্তির পর তানসিভ জুবায়ের বলেন, 'যেকোনো স্বীকৃতিই কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়। আমি বিশেষ কিছু করেছি—এটা বলব না; সীমিত সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। তবে এখানেই থেমে গেলে হবে না, আরও এগিয়ে যেতে হবে।' তাঁর এই বক্তব্য ভবিষ্যতেও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটায়।
এই পুরস্কার মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি উৎসাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



