রাজধানীতে চিকিৎসকের ছিনতাই: মায়ের স্মৃতির চুড়ি হারালেন মানা সায়েন্তা ঘোষ
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় এক দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন মানা সায়েন্তা ঘোষ (৩৮) নামের এক চিকিৎসক। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে গ্রিন লাইন বাস কাউন্টারের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা কেবল মূল্যবান সামগ্রীই নয়, কেড়ে নিয়েছে তাঁর মায়ের শেষ স্মৃতিটুকুও, যা একটি সোনার চুড়ি ছিল।
ঘটনার বিবরণ: ভোরে ছিনতাই ও গুরুতর আঘাত
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ভোর আনুমানিক ৬টা ৩০ থেকে ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে গ্রিন লাইন কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মানা সায়েন্তা ঘোষ। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী অতর্কিত তাঁর ব্যাগ ধরে টান দেয়। ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই চিকিৎসক ডান হাতে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন, যা তাঁর দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
হারাল মায়ের শেষ স্মৃতি: সোনার চুড়ির আবেগ
ছিনতাই হওয়া ব্যাগের ভেতরে ছিল একটি ভিভো স্মার্টফোন, একটি দামি লিটম্যান স্টেথোস্কোপ, এটিএম কার্ড এবং নগদ টাকা। তবে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় ছিল মানা সায়েন্তা ঘোষের হাতে থাকা সোনার চুড়িটি। ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ছিনতাইকারীরা নির্মমভাবে তাঁর হাত থেকে মায়ের দেওয়া শেষ স্মৃতির সেই চুড়িটিও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মানা সায়েন্তা ঘোষ বলেন, ‘সবাই তাকিয়ে দেখছিল, কিন্তু কেউ একটা শব্দও করল না। আমার ফোন বা টাকার চেয়েও বেশি কষ্ট হচ্ছে মায়ের দেওয়া চুড়িটা হারিয়ে। ওটা তো কেবল সোনা ছিল না, ওটা ছিল আমার আবেগ।’
জনমানুষের নির্লিপ্ততায় ক্ষোভ: নৈতিক অবক্ষয়ের উদ্বেগ
ঘটনাটি যখন ঘটছিল, তখন আশেপাশে বেশ কয়েকজন পথচারী ও যাত্রী উপস্থিত ছিলেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, উপস্থিত সবাই ঘটনাটি দাঁড়িয়ে দেখলেও কেউ এগিয়ে আসার বা ছিনতাইকারীদের আটকানোর সামান্যতম চেষ্টাটুকুও করেনি। জনাকীর্ণ স্থানে মানুষের এই চরম নির্লিপ্ততা ও নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি, যা সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রশ্ন তুলেছে।
আইনি পদক্ষেপ: পুলিশের তদন্ত ও সিসিটিভি বিশ্লেষণ
এই ঘটনায় চিকিৎসক মানা সায়েন্তা ঘোষ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দায়িত্ব থাকা থানা পুলিশ (এএসআই) শাওন জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ চলছে, যা দ্রুত ফলাফল আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
