লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক দিনের ছুটি নিয়ে ১০ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন দুই চিকিৎসক। দায়িত্বশীল পেশায় এ দীর্ঘ অনুপস্থিতি যেমন গুরুতর অনিয়ম, তেমনি প্রশাসনিক নজরদারির বড় ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।
অনুপস্থিত চিকিৎসকরা কে?
অনুপস্থিত চিকিৎসকরা হলেন— রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থো) আবুল কাশেম মহিউদ্দিন ও উপজেলার সাইচা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার কাজী সামসুদ্দোহা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দীর্ঘ অনুপস্থিতির ইতিহাস
২০১৫ সালের ১৩ জুলাই থেকে আবুল কাশেম মহিউদ্দিন এবং একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কাজী সামসুদ্দোহা কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তারা পারিবারিক কারণ দেখিয়ে এক দিনের ছুটি নেন, কিন্তু আর ফেরেননি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ সময় থেকে তারা কোনো বেতন-ভাতাও তোলেননি।
প্রশাসনিক ব্যর্থতা
প্রতি মাসের ৫-৬ তারিখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল পরিস্থিতির তালিকা লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। ওই প্রতিবেদনে দুই চিকিৎসকের অনুপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও ১০ বছরেও পদ দুটি শূন্য ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
রোগীদের ভোগান্তি
প্রায় চার লাখ মানুষের জন্য এই হাসপাতালে বর্তমানে মাত্র ২১ জন চিকিৎসক দিয়ে সেবা দেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
প্রতিক্রিয়া
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির রায়পুর উপজেলা শাখার সভাপতি সাব্বির আলম মিয়াজী বলেন, যেসব চিকিৎসক আইন ভঙ্গ করে অনুপস্থিত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। গত ১০ বছরে অনেক ডাক্তার এখানে পদায়ন করা যেত, যা না হওয়া দুঃখজনক।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. বাহারুল আলম বলেন, প্রতি মাসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুপস্থিতির বিষয়টি জানানো হয়। পদ শূন্য না হওয়ায় নতুন কাউকে পদায়ন করা হয়নি। কর্মস্থলে ফিরতে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও তাদের কোনো খোঁজ নেই।



