চাঁদপুরে ইটভাটার কক্ষ থেকে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার, চিরকুটে চারজনের নাম
চাঁদপুরে ইটভাটায় চিকিৎসকের মরদেহ, চিরকুটে চারজনের নাম

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একটি ইটভাটার কক্ষ থেকে এক চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার আমুয়াকান্দি এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ‘চিরকুট’ও উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে চারজনকে দায়ী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত চিকিৎসকের পরিচয়

নিহত ব্যক্তির নাম গোলাম কিবরিয়া ওরফে রাজিব চৌধুরী (৩৮)। তিনি রাজধানীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার কালিপুর এলাকায়। তাঁর স্ত্রীও চিকিৎসক। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতেন।

ইটভাটার ব্যবসায় জড়িত ছিলেন

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, চাকরির পাশাপাশি গোলাম কিবরিয়া মতলব উত্তর উপজেলার আমুয়াকান্দি ও শাহাপুর এলাকায় দুটি ইটভাটার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভাটার কাজ তদারকির জন্য মাঝেমধ্যে তিনি সেখানে গিয়ে একটি কক্ষে অবস্থান করতেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

গত বুধবার রাতে গোলাম কিবরিয়া ঢাকা থেকে এসে আমুয়াকান্দির ওই ইটভাটার কক্ষে ওঠেন। এর পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর আর যোগাযোগ হয়নি এবং তিনি কক্ষ থেকেও বের হননি। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে কক্ষটির দরজা খোলা অবস্থায় ভেতরে মেঝেতে তাঁর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে।

চিরকুট উদ্ধার

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে চারজনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে ওই নোটের বিস্তারিত বা উল্লেখিত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

স্বজনদের দাবি

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্বজন দাবি করেন, ব্যবসায়িক ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও ময়নাতদন্ত

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে গোলাম কিবরিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। এটি আত্মহত্যা, প্ররোচিত আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। উদ্ধার করা নোটটি নিহত ব্যক্তির লেখা কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।