রাজশাহীর তানোরে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝড়ে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) একটি বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে। খুঁটির সঙ্গে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) লোবাতালা সেতুর পূর্ব পাশে একটি গভীর নলকূপের সংযোগ ছিল। সারারাত কৃষিজমিতে ছেঁড়া তার পড়ে ছিল। শুক্রবার সকালে সেই মাঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতটি গরু ও দুটি শিয়াল মারা যায়।
ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিপূরণের আশা
গরুগুলোর দাম ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন মালিকেরা। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ার ঘটনা নেসকো জানতে পারেনি। এ ঘটনায় সারাদিন ক্ষতিপূরণের আশায় থাকার পর সন্ধ্যায় গরুগুলো পুঁতে ফেলেন মালিকেরা। তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাঁদের এক বান্ডিল টিন ও তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত গরুর মালিকদের তালিকা
- হরিদেবপুর গ্রামের তপু বালা: দুটি গরু
- সুধা রানী: একটি গরু
- সমাসপুর তালন্দ বাজার এলাকার মোজাফফর হোসেন: একটি গরু
- হরিদেবপুর গ্রামের জিতেন: একটি গরু
- গীতা রানী: একটি গরু
- তালন্দ বাজার এলাকার মনজুর রহমান: একটি গরু
শুক্রবার সারাদিন গরুগুলো ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল।
ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য
গরুর মালিক মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, তিনি ৮২ হাজার টাকা দিয়ে গরুটি কিনেছিলেন। এখন বিক্রি করলে লাখ টাকার বেশি দাম হবে। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল ছয়টার দিকে মাঠে গরু ছেড়ে দেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তিনি ওই ঘটনার খবর পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, তাঁর গরুও মরে পড়ে আছে। তাঁরা সবাই ইউএনওর কাছে গিয়ে ক্ষতিপূরণের জন্য অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
হরিদেবপুর গ্রামের তপু বালা চোখ মুছতে মুছতে বলেন, 'এই আমাদের সংসার। আমরা গরুর ক্ষতিপূরণ চাই।' একই কথা বলেন সুধা রানী।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দা সুকুমার রবিদাস বলেন, রাতের ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে তার ছিঁড়ে যায়। সকালে গরুগুলো মাঠে চরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।
নেসকোর বক্তব্য
যোগাযোগ করলে তানোরের নেসকোর আবাসিক (সহকারী) প্রকৌশলী অমিত হাসান বলেন, খুঁটির ট্রান্সফরমার থেকে বিএমডিএর একটি গভীর নলকূপের সংযোগ দেওয়া ছিল। সেখান থেকে আবার লোলিফট পাম্পে আরেকটি সংযোগ টানা ছিল। ঝড়ে গভীর নলকূপ থেকে সংযোগের তার ছিঁড়ে মাঠে পড়ে ছিল। সেচ দেওয়ার প্রয়োজন না হওয়ায় কেউ খেয়াল করেননি। তাঁরাও জানতে পারেননি। সকালে দুর্ঘটনার পর তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ওই লাইনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে লাইন ঠিক করার কাজ করা হয়। ক্ষতিপূরণের বিষয়ে বলেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। ক্ষতিপূরণের নিয়ম আছে কি না, জানা নেই।
বিএমডিএর বক্তব্য
বিএমডিএর তানোর অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যুতের লাইনটি নেসকোর। এ ব্যাপারে তাঁরা বলতে পারবেন। বিএমডিএ তো নেসকোর গ্রাহক মাত্র। তাঁদের এ বিষয়ে কিছুই বলার নেই।
পুলিশের বক্তব্য
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঝড়ে তার ছিঁড়ে গেল নাকি অন্য কোনো ঘটনা ঘটেছে, অনুসন্ধান চলছে। নেসকোর আঞ্চলিক প্রকৌশলীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। তাঁরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
ইউএনওর বক্তব্য
তানোরের ইউএনও নাঈমা খান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সকালেও প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন। তিনি প্রত্যেক গরুর মালিককে এক বান্ডিল করে টিন ও নগদ তিন হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামীকাল রোববার অফিস খোলার পর গরুর মালিকেরা আবেদন করলে এটা দিতে পারবেন। সঙ্গে একটা শুকনা খাবারের প্যাকেট দেবেন। এর বাইরে আপাতত তাঁর কিছুই করার নেই। এখন নেসকো ক্ষতিপূরণ দিতে পারবে কি না, সেটা তাদের বিষয়।



