বগুড়ায় শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের সঙ্গে সংঘর্ষ, কর্মবিরতি
বগুড়ায় শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের সঙ্গে সংঘর্ষ

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের প্রতিবাদের মুখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। উল্টো এর প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা চার দফা দাবিতে বুধবার রাত থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন। তারা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এতে হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকালে বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর এ মোর্শেদ জানিয়েছেন, কর্মবিরতি চলাকালে অতিরিক্ত চিকিৎসক দিয়ে সেবা দেওয়া হয়েছে। ইন্টার্নদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা আজ রাত থেকে কাজ শুরু করবেন।

ঘটনার বিবরণ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বুধবার বিকালে শজিমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নিহান নামে পাঁচ মাস বয়সী এক শিশু মারা যায়। শিশুটি বগুড়া শহরের সেউজগাড়ি এলাকার মো. খোকনের ছেলে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত নিহানকে গত সোমবার সকালে ভর্তি করা হয়েছিল। বুধবার দুপুরের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বিকালে মারা গেলে চিকিৎসা ‘অবহেলায়’ মৃত্যুর অভিযোগ করেন স্বজনরা। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাদের সঙ্গে চিকিৎসকদের হাতাহাতি হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহানের বাবা মো. খোকন জানান, তার ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার বোন কয়েকবার নার্সদের ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কেউ সঠিক সময়ে আসেননি। পরে ছেলে মারা যাওয়ার পর এক চিকিৎসক এলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তার বোন তাকে দূরে সরিয়ে দেন। এ নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা তার বোন ও স্বজনদের মারধর করেন। এ ছাড়া তিন জন স্বজনকে আটকে রাখেন চিকিৎসক ও আনসাররা।

তবে চিকিৎসকদের দাবি, মৃত শিশুর স্বজনরা প্রথমে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং তার গায়ে হাত তোলেন। এ নিয়ে হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুচলেকা দিয়ে শিশুর স্বজনরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর্মবিরতি ও দাবি

এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাত ৯টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তারা বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধনও করেন। মানববন্ধন চলাকালে প্রায় আধা ঘণ্টা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়। তবে হাসপাতালের অন্যান্য সেবা চালু রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

মানববন্ধনে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, কাল রাতের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।

প্রতিক্রিয়া

শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসক বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. আফসারুল হাবিব রোজ বলেন, ‘হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী থাকে। রোগীদের সঙ্গে অতিরিক্ত স্বজনও অবস্থান করেন। কাল রাতের ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে।’

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘হাসপাতালে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা গৃহণযোগ্য নয়। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি, শিশুটির এক স্বজন প্রথমে চিকিৎসকের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’