মেসির ফিটনেসের রহস্য: পানি, অলিভ অয়েল, গোটা শস্য, ফল ও সবজি
মেসির ফিটনেসের রহস্য: পানি, অলিভ অয়েল, গোটা শস্য, ফল ও সবজি

৩৯ বছর বয়সেও ফুটবল মাঠে অবিশ্বাস্য ফিটনেস, গতি আর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। বছরের পর বছর কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক অনুশীলনের পাশাপাশি নিজের খাদ্যতালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে এই অসাধ্য সাধন করেছেন তিনি। মূলত শরীর দ্রুত চাঙ্গা করা এবং সার্বিক সুস্থতা ধরে রাখতে পুষ্টিকর ও সাধারণ খাবারই এখন মেসির মূল ভরসা।

ডায়েটে বড় পরিবর্তন

স্প্যানিশ দৈনিক মুন্দো দেপোর্তিভোর বরাতে জানা গেছে, ২০১৪ বিশ্বকাপের পর মেসি ইতালীয় পুষ্টিবিদ জিউলিয়ানো পোসারের অধীনে নিজের ডায়েট চার্ট পুরোপুরি বদলে ফেলেন। পোসারের মতে, মেসির সুস্থ ও আদর্শ ডায়েটের মূল ভিত্তি হলো ৫টি খাবার: ‘পানি, অলিভ অয়েল, গোটা শস্য (হোল গ্রেইন), তাজা ফলমূল এবং তাজা শাকসবজি’।

এই পুষ্টিবিদ কীটনাশকযুক্ত খাবার পরিহার করার ওপর তাগিদ দিয়ে বলেন, কীটনাশকযুক্ত খাবার শরীরে অনেক সমস্যা তৈরি করতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ

২০১৫ সালে তিনি জানান, মেসি প্রক্রিয়াজাত খাবার পুরোপুরি বাদ দিয়ে ভিটামিন, মাছ ও অলিভ অয়েল যুক্ত খাবার গ্রহণ শুরু করায় আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্রতার সঙ্গে অনুশীলন করতে পারছেন।

মেসির খাদ্যতালিকা থেকে চিনি এবং পরিশোধিত ময়দাও প্রায় বাদ দেওয়া হয়েছে। পোসারের ভাষায়, পেশির জন্য চিনি সবচেয়ে ক্ষতিকর জিনিস। আর পরিশোধিত ময়দা শরীর সহজে হজম করতে পারে না। লাল মাংস মেসির প্রিয় হলেও তা এখন পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ অতিরিক্ত মাংস হজম প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তোলে।

ঐতিহ্যবাহী অভ্যাস

ডায়েটে এত নিয়ম মানলেও একটি ঐতিহ্যবাহী অভ্যাস এখনও ধরে রেখেছেন মেসি। সেটি হলো দক্ষিণ আমেরিকার জনপ্রিয় পানীয় ইয়েরবা মাতে। ২০১৯ সালে মার্কা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘আমি গরম ও তেতো মাতে পছন্দ করি। আগে মিষ্টি খেতাম, কিন্তু পরে তেতো স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এছাড়া সাধারণ ও আরামদায়ক খাবার হিসেবে পাস্তা, মিলানেসা এবং রোস্ট খেতে ভালোবাসেন তিনি। নিজের রসনাবিলাস নিয়ে মেসি বলেন, ‘খুব সাধারণ খাবারই আমার পছন্দ।’

পরিমিতিবোধের গুরুত্ব

মাঝেমধ্যে পরিমিত পরিমাণে চকলেট, দুলসে দে লেচে (এক ধরনের মিষ্টি), আইসক্রিম এবং নিজের অন্যতম প্রিয় খাবার পিজ্জাও খান তিনি। মূলত কঠোর কোনও নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং পরিমিতিবোধ ও গুণগত মানের খাবারের ধারাবাহিকতাই মেসিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করছে।

সূত্র: এনডিটিভ