চিংড়িতে ক্ষতিকর জেলি পুশ: অসাধু চক্রের মরণখেলা, জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকি
চিংড়িতে জেলি পুশ: অসাধু চক্রের মরণখেলা, স্বাস্থ্যঝুঁকি

চিংড়িতে জেলি পুশ: ভোক্তাদের জন্য বিষফাঁদ

বাংলাদেশের মাছের বাজারে চিংড়িতে সিলিকা জেলি পুশ করার প্রবণতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অসাধু চক্র বাড়তি মুনাফার আশায় মানুষের জীবন নিয়ে মরণখেলায় মেতেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই বিষাক্ত জেলি দীর্ঘমেয়াদে কিডনি বিকল ও ক্যানসারের মতো রোগ ডেকে আনতে পারে। কঠোর আইন থাকলেও নজরদারির অভাবে এই প্রতারণা থামানো যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা: ৪ কেজি চিংড়িতে ৩ কেজি জেলি

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. শাহ আলম চৌধুরী রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাছের আড়ত থেকে ৪ কেজি চিংড়ি কিনে বাসায় নিয়ে দেখেন ভেতরে সিলিকা জেলি ভর্তি। তিনি যুগান্তরকে বলেন, 'বাসায় নিয়ে পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখি মাছের চেয়ে জেলিই বেশি। ৪ কেজি চিংড়ির ৩ কেজিই জেলি!' তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'বিক্রেতারা একটু বেশি লাভের আশায় মানুষের পাতে বিষ তুলে দিচ্ছেন। দেখার কেউ নেই।'

প্রশাসনের অভিযান: ফেনীতে ৮০ কেজি চিংড়ি জব্দ

শনিবার ফেনী পৌর মৎস্য আড়তের 'বাংলাদেশ ফিশিং' থেকে ৮০ কেজি গলদা চিংড়ি জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা নাসরিন কান্তা ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। গত সপ্তাহে কেরানীগঞ্জে ধলেশ্বরী টোলপ্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিলিকা জেলি ঢোকানো চিংড়ি বিক্রির সময় কয়েকজনকে হাতেনাতে ধরা হয়। সোমবার বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করে সাড়ে ১০ কেজি চিংড়ি মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জেলি তৈরির পদ্ধতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

যাত্রাবাড়ীর এক আড়তদার জানান, মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা সিলিকা পাউডার ও ভাতের মাড় মিশিয়ে ঘন আঠালো জেলি তৈরি করে সিরিঞ্জের মাধ্যমে চিংড়ির মাথা ও শরীরের নরম অংশে পুশ করে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম আহমেদ বলেন, 'এই বিষাক্ত জেলি পেটে হজম হয় না, পাকস্থলিতে জমে গ্যাস্ট্রিক ও প্রদাহ সৃষ্টি করে। রাসায়নিক রক্তে মিশে কিডনি নষ্ট করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইন প্রয়োগে দুর্বলতা

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, 'আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকায় জনগণ ভেজাল খাদ্য থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছে না।' নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ড. মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, তারা বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করছেন এবং ভেজাল পেলে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, 'অভিযান চলমান, কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।'