স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হামের প্রাদুর্ভাব রোধ এবং শিশুমৃত্যু কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। প্রতিটি শিশুকে টিকাদানের আওতায় এনে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সংসদে মন্ত্রীর বক্তব্য
বৃহস্পতিবার ১৩তম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১৫তম বৈঠকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে টিকা নিতে অনীহা, অসম্পূর্ণ টিকাদান, জনসচেতনতার অভাব এবং কিছু ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ও সামাজিক বাধা রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় ভূমিকা রাখছে।
দায় নির্ধারণ ও ব্যবস্থা
মন্ত্রী জানান, হাম সম্পর্কিত প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর জন্য দায় নির্ধারণ করা হয় তদন্ত ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে। কোনো কর্মকর্তার অবহেলা, দায়িত্বে অবহেলা বা ব্যর্থতা প্রমাণিত হলে বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
টিকা ব্যবস্থাপনা
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ আন্তর্জাতিক মান ও সরকারি বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। টিকা সংগ্রহ পদ্ধতির পরিবর্তন টিকাদান কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে কিনা তা প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা বা অনিয়ম চিহ্নিত হলে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতি এড়াতে সরকার নিরবচ্ছিন্ন টিকা সরবরাহ, টিকার মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদার, রোগ নজরদারি সম্প্রসারণ, দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্তকরণ ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা উন্নতকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, হাম টিকার আওতা বাড়াতে এবং দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষায় বিশেষ টিকাদান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



