প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায়) প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, দেশে আরও এক লাখ স্বাস্থ্য সেবাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই তারা কাজ করছেন।
ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড বিতরণ শুরু
এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খুব শিগগিরই ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড বিতরণ শুরু হবে বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার বরিশালের শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও হাসপাতালের (শেবাচিম) চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বরিশাল অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনা
বরিশাল অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে করণীয় বিষয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় শেবাচিম হাসপাতালসহ দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা সেক্টরের নানা সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর কাছে তুলে ধরেন আলোচকরা। জবাবে জিয়াউদ্দিন বলেন, সমস্যা সমাধানে তারা কাজ করছেন।
তিন ধরনের স্বাস্থ্যকর্মীকে একত্রিত করার পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, দেশে বর্তমানে তিন ধরনের স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছে। তিনটি বিভাগের অধীনে এরা কাজ করলেও দূরের মানুষের দোরগোড়ায় তারা যাচ্ছেন না। এই তিন ধরনের স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি জায়গায় নিয়ে আসা হবে, যাতে তারা প্রতিটি মানুষের দরজায় টোকা দিয়ে সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারেন। সেজন্যই আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির চেষ্টা
তিনি আরও বলেন, আগামী বাজেটে যাতে জিডিপির অন্তত এক শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ থাকে, সেই চেষ্টা চলছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা
আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্যসেবার পদ্ধতিগত ভুলের কথা উল্লেখ করে জিয়াউদ্দিন বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক করতে গিয়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর দিকে তারা কোনো নজরই দেয়নি। আমরা চাই ইউনিয়ন পর্যায়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে, যার মাধ্যমে সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে।
সভায় অন্যান্য বক্তা
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীরের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. এমএম খালিদ মাহমুদ শাকিল এবং শেবাচিমের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহামুদ হাসান।



