ডাচ ক্রুজ শিপ এমভি হন্ডিয়াসে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের জেরে এবার ফ্রান্সেও এই রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু জানিয়েছেন, আক্রান্ত জাহাজটি থেকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার পথে এক ফরাসি নাগরিকের শরীরে এই ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে নোঙর করা ওই জাহাজটি থেকে যাত্রীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এই ঘটনার পর উদ্ধার ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে ঘিরে কঠোর স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফরাসি সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, পাঁচজন ফরাসি নাগরিক একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে টেনেরিফ থেকে প্যারিসে ফিরছিলেন। উড্ডয়ন চলাকালেই একজন যাত্রীর শরীরে হঠাৎ অসুস্থতা ও হান্টাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে পুরো দলকে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইসোলেশনে রাখা হয়।
প্যারিসের লে বুরজে বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণের পর বিশেষ সুরক্ষা সরঞ্জাম বা পিপিই পরিহিত স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের গ্রহণ করেন। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের প্যারিসের বিখ্যাত বিচ্যাট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাদের ৭২ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আরও ৪৫ দিনের জন্য বাধ্যতামূলক হোম আইসোলেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় স্পেন সরকার পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করছে। এমভি হন্ডিয়াস জাহাজে থাকা ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রুর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯০ জনের বেশি নাগরিককে তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। স্পেন, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের আলাদা চার্টার্ড ফ্লাইটে সরিয়ে নিচ্ছে।
মার্কিন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের দুইজন যাত্রীর মধ্যে একজনের শরীরে ‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’ পজিটিভ পাওয়া গেছে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত তিনজন যাত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজনের শরীরে সরাসরি হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ালেও ‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’ নামক ধরনটি মানুষের মাধ্যমেও সংক্রমিত হতে পারে। এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড জ্বর, ক্লান্তি, পেটব্যথা, বমি এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট।
সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে জাহাজ থেকে যাত্রী নামানো এবং বিমানবন্দরে পরিবহনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বায়ো-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এই তথ্যের পর আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো ইউরোপজুড়ে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করেছে। সূত্র: বিবিসি



