হঠাৎ জ্বর, তারপর শ্বাসকষ্ট—কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সম্প্রতি আটলান্টিকের একটি ক্রুজ জাহাজে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় এসেছে হান্টাভাইরাস। প্রশ্ন উঠেছে—এই ভাইরাস কি শুধু ইঁদুর থেকেই ছড়ায়, নাকি অন্য পথও আছে?
ইঁদুরই প্রধান উৎস
হান্টাভাইরাসের সবচেয়ে পরিচিত বাহক হলো ইঁদুরজাতীয় প্রাণী। আক্রান্ত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালা শুকিয়ে ধুলোর সঙ্গে মিশে গেলে তা বাতাসে ভেসে থাকে। সেই ধুলো শ্বাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢুকে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এ কারণে এটি মূলত ইঁদুরবাহিত ভাইরাস হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ঘরবাড়ি, গুদাম বা বন্ধ জায়গায় ইঁদুর থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
শুধু কি ইঁদুরই দায়ী?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইঁদুরই প্রধান উৎস হলেও বিষয়টি পুরোপুরি একমাত্র নয়। কিছু বিরল ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ধরনের হান্টাভাইরাস মানুষের মধ্যে সীমিত সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যেমন ‘অ্যান্ডিজ ভাইরাস’ ধরনের ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর কিছু ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, তবে এটি খুবই ব্যতিক্রমী।
কীভাবে সংক্রমণ ঘটে?
হান্টাভাইরাস সাধারণত সরাসরি স্পর্শে নয়, পরিবেশের মাধ্যমেই ছড়ায়। ইঁদুরের মল বা মূত্র শুকিয়ে ধুলোর সঙ্গে মিশে গেলে তা শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। আবার ইঁদুর বা তাদের বর্জ্য পরিষ্কার করার সময় হাতের সংস্পর্শ থেকেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ, ভাইরাসটি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু বাতাসেই লুকিয়ে থাকতে পারে।
কেন এটি বিপজ্জনক?
প্রাথমিকভাবে হান্টাভাইরাসে জ্বর, ক্লান্তি বা সাধারণ অসুস্থতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কিন্তু দ্রুতই এটি তীব্র শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসজনিত জটিলতায় রূপ নিতে পারে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা একে “বিরল কিন্তু গুরুতর” সংক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করেন।
ঝুঁকি কোথায় বেশি?
ইঁদুরের উপস্থিতি আছে এমন জায়গায় ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে পুরনো বা বন্ধ ঘর, গুদাম, বা দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা স্থানে সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ে। পরিচ্ছন্নতার অভাব এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
প্রতিরোধই মূল উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাস থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। ঘরে ইঁদুর প্রবেশ বন্ধ করা, খাবার খোলা না রাখা এবং বর্জ্য পরিষ্কারের সময় সতর্কতা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ কথা
হান্টাভাইরাস শুধু ইঁদুর থেকেই ছড়ায়—এই ধারণা আংশিকভাবে ঠিক। ইঁদুরই প্রধান উৎস হলেও সংক্রমণের প্রকৃত ঝুঁকি তৈরি হয় আমাদের পরিবেশ ও সতর্কতার অভাব থেকেই। অর্থাৎ, ঝুঁকিটা শুধু ইঁদুরে নয়—আমরা কতটা সচেতন, সেটাই আসল বিষয়।



