চীনা গবেষকরা নতুন এক গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, মাত্র এক রাতের ঘুমের পর মস্তিষ্কের 'স্মৃতি অধিনায়ক' বা 'মেমোরি কমান্ডার' তার দায়িত্ব হস্তান্তর করে। এই গবেষণাটি ১৫ জুন চিকিৎসা বিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল 'নিউরণ'-এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়।
গবেষণার পদ্ধতি
আর্মি মেডিকেল ইউনিভার্সিটির শিনছিয়াও হাসপাতালের নিউরোসার্জারি গবেষণা দল টানা ছয় দিন ধরে ১৪ জন মৃগীরোগীর মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে। রোগীরা বারবার বিভিন্ন ছবি দেখছিলেন এবং তা মনে রাখার চেষ্টা করছিলেন। গবেষকরা 'স্টিরিওইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাফি' প্রযুক্তি ব্যবহার করে মস্তিষ্কের উচ্চ-কম্পাঙ্কের কার্যকারিতা রেকর্ড করেন।
প্রথম দিন: হিপোক্যাম্পাসের ভূমিকা
নতুন কিছু শেখার প্রথম দিনে মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস অঞ্চল 'রিপলস' নামক সংক্ষিপ্ত বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে নিওকর্টেক্সকে নির্দেশনা দেয়। এই সময় হিপোক্যাম্পাসই স্মৃতি গঠনের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
দ্বিতীয় দিন: ঘুমের পর পরিবর্তন
এক রাতের ঘুমের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। দ্বিতীয় দিন থেকে নিওকর্টেক্সের 'রিপল' কার্যকারিতা হিপোক্যাম্পাসের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং স্মৃতি মনে রাখার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব গ্রহণ করে। দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরালো হয় এবং তথ্যের প্রবাহ হিপোক্যাম্পাস থেকে নিওকর্টেক্সের দিকে ধাবিত হয়।
গবেষকের মন্তব্য
গবেষণার প্রধান লেখক ওয়াং লুকাং এই প্রক্রিয়াটিকে গাড়ি চালানো শেখার সাথে তুলনা করে বলেন, 'প্রথম দিনে একজন ড্রাইভিং ইন্সট্রাক্টর যেমন শিক্ষার্থীর প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে গাইড করেন, হিপোক্যাম্পাসও ঠিক তা-ই করে। কিন্তু এক রাতের ভালো ঘুমের পর মস্তিষ্কের কর্টিকাল নেটওয়ার্ক নিজেই এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, যার ফলে অর্জিত দক্ষতাটি আরও স্বয়ংক্রিয় এবং স্থায়ী রূপ পায়।'
গুরুত্ব ও প্রভাব
এই আবিষ্কার ইঙ্গিত করে যে, স্মৃতি স্থায়ী হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি আগের ধারণার চেয়ে অনেক দ্রুত ঘটে—শেখার ঠিক পরের রাতেই। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল আলঝেইমার্স, মস্তিষ্কের আঘাতজনিত সমস্যা এবং মৃগীরোগের কারণে সৃষ্ট স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো জটিল রোগের নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কারে সহায়ক হতে পারে। সূত্র: সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ডেইলি; নিউরণ।



