নওগাঁর শিশু মেঘার বিরল টিউমার: দরিদ্র পরিবারের জন্য চিকিৎসা সংকট
নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার সীমানার পাশে অবস্থিত বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভার মালশন গ্রামের ১৫ মাস বয়সী শিশু মেঘা জান্নাত একটি বিরল ধরনের টিউমারে আক্রান্ত। এই টিউমারটি তার গলার পাশে জন্মের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় ছোট একটি গুটি হিসেবে দেখা দেয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড় হয়ে টিউমারে রূপ নেয়। শিশুটির বাবা মোহন, যিনি মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে এবং পেশায় একজন রংমিস্ত্রি, তার পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারটি ইতোমধ্যে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত প্রায় এবং প্রতি মাসেই ওষুধের পেছনে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় হচ্ছে।
চিকিৎসা পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, শিশু মেঘার টিউমারটি অপসারণের জন্য তাকে চার বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, তারপর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এটি অপসারণ করা সম্ভব। ততদিন পর্যন্ত ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। তবে, পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এই টিউমারটি ক্যানসারজনিত এবং এর উন্নত চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়; বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা যুব অফিসের কর্মকর্তা ইবনু সাব্বির আহমেদ বিষয়টি সরেজমিনে দেখে নিশ্চিত করেছেন যে শিশুটি রক্তনালির ক্যানসারে আক্রান্ত এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, সহযোগিতা পেলে শিশুটির সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারি ও সামাজিক সহযোগিতা
এ বিষয়ে মাসুমা বেগম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জানান যে তারা খোঁজখবর নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। শিশু মেঘার পরিবার, যারা ভূমিহীন দরিদ্র দিনমজুর, তারা সমাজের বিত্তবান ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। পরিবারের আশা যে সবার সহায়তায় একদিন শিশু মেঘা সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। সহযোগিতার জন্য তারা বিকাশ নম্বর ০১৭৭২৭৯১৯৬৭ উল্লেখ করেছেন।
এই ঘটনা শিশু স্বাস্থ্য ও দরিদ্র পরিবারের চিকিৎসা সংকটের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলিকে তুলে ধরে।
