ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় শুধু দুই ধরনের খাবার: প্রক্রিয়াজাত মাংস ও অ্যালকোহল
পরিবর্তিত জীবনযাত্রার প্রভাবে বর্তমান সময়ে মানুষের স্বাস্থ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মার্কিন ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নতুন করে আনুমানিক ২০ লাখ ১ হাজার ১৪০টি ক্যানসার রোগী শনাক্ত হতে পারে এবং প্রায় ৬ লাখ ১১ হাজার ৭২০ জন ক্যানসারে প্রাণ হারাতে পারেন। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে খাদ্যাভ্যাস একটি বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ক্যানসার ডায়েটিশিয়ান নিকোল অ্যান্ড্রুজ এই বিষয়টি নতুন করে তুলে ধরেছেন।
বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ঝুঁকিপূর্ণ খাবার
টিকটকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে অ্যান্ড্রুজ জানান, তিনি প্রায়ই শুনে থাকেন যে চিনি, গরুর মাংস, গ্লুটেন, ডায়েট সোডা কিংবা উদ্ভিজ্জ তেল ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে সরাসরি ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত এমন খাবার মাত্র দুটি। সেগুলো হলো প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং অ্যালকোহল।
অ্যালকোহলের ক্ষতিকর প্রভাব
১৫ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে নিকোল অ্যান্ড্রুজ সতর্ক করে বলেন, অ্যালকোহল সেবনে অন্তত ছয় ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। নিউজউইককে দেয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, অ্যালকোহল গ্রহণের সঙ্গে স্তন ক্যানসার, কোলোরেক্টাল ক্যানসার, খাদ্যনালি ক্যানসার, লিভার ক্যানসার, মুখ ও গলার ক্যানসার এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
প্রক্রিয়াজাত মাংসের বিপদ
ভিডিওতে তিনি প্রক্রিয়াজাত মাংসের ক্ষতিকর দিক নিয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। দোকানে সহজে পাওয়া হটডগ, সসেজ, বেকন, ডেলি মিটের মতো আগে থেকেই রান্না করা মাংসজাত খাবার নিয়মিত খেলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই দুই ধরনের খাবার ছাড়া এমন কোনো নির্দিষ্ট খাবার নেই, যেগুলো খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়বেই। ফলে এটি আসলে স্বস্তির খবর।’
ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব
নিকোল অ্যান্ড্রুজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সারের ছড়ানো ভয়ভিত্তিক সতর্কবার্তায় কান না দিতে পরামর্শ দেন এবং ভারসাম্যপূর্ণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের ওপর জোর দেন। নিউজউইকের সঙ্গে আলাপে তিনি আরও বলেন, ‘স্থূলতা অন্তত ১৩ ধরনের ক্যানসারের একটি প্রমাণিত ঝুঁকির কারণ। কারণ স্থূলতা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও হরমোনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে। সমস্যা শুধু চিনি নয়; আসল বিষয় হলো- মোট ক্যালোরি গ্রহণ ও শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি।’
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ক্যানসার কোষসহ শরীরের সব কোষ শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে। চিনি পুরোপুরি বাদ দিলেও ক্যানসার কোষ ‘অনাহারে’ মারা যাবে না, কারণ শরীর প্রোটিন বা চর্বি থেকেও নিজে থেকেই গ্লুকোজ তৈরি করতে পারে। ক্যানসার কোষ বেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করে এবং এটি তাদের বিপাক প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য।’
ক্যানসার প্রতিরোধে উপকারী খাবার
সবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম ও বীজের মতো উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে সমৃদ্ধ খাদ্যতালিকা ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘এসব খাবারে থাকা ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিক্যাল প্রদাহ কমায়, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে, যা ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’ পাশাপাশি তিনি মাছ, ডিম, মুরগি কিংবা চর্বিহীন মাংসের মতো উন্নতমানের প্রাণিজ প্রোটিন প্রচুর সবজির সঙ্গে খাওয়ার পরামর্শও দেন।
এই তথ্যগুলো ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
