হেয়ার এক্সটেনশনে ক্যানসারের বিষাক্ত রাসায়নিক: গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ
হেয়ার এক্সটেনশনে ক্যানসারের বিষাক্ত রাসায়নিক

হেয়ার এক্সটেনশনে ক্যানসারের বিষাক্ত রাসায়নিক: গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ

চুল ঘন ও আকর্ষণীয় করার জনপ্রিয় অনুষঙ্গ হেয়ার এক্সটেনশন নিয়ে এক ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে বহুল ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের হেয়ার এক্সটেনশনে এমন কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা সরাসরি ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত। এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশের পর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছেন।

গবেষণার বিস্তারিত ফলাফল

ম্যাসাচুসেটসের সাইলেন্ট স্প্রিং ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা অনলাইনে বিক্রি হওয়া ৪৩টি জনপ্রিয় হেয়ার এক্সটেনশন পণ্য বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। পরীক্ষায় এসব কৃত্রিম চুলে কয়েক ডজন বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে রয়েছে ফ্লেম রিটারডেন্ট, থ্যালেটস, পেস্টিসাইড, স্টাইরিন এবং টেট্রাক্লোরো ইথেনের মতো উপাদান। এর আগের বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে এসব রাসায়নিক কেবল ক্যানসারই নয়, বরং হরমোনজনিত জটিলতা, শিশুদের বিকাশে বাধা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গবেষকদের সতর্কতা ও ব্যাখ্যা

গবেষণার প্রধান ডা. অ্যালিসিয়া ফ্র্যাঙ্কলিন জানিয়েছেন, বেশিরভাগ কোম্পানি তাদের পণ্যে ব্যবহৃত রাসায়নিকের কথা প্রকাশ করে না, যার ফলে গ্রাহকরা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে অন্ধকারেই থেকে যান। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে এই কৃত্রিম তন্তুগুলো সরাসরি মাথার ত্বক ও ঘাড়ের খুব কাছে থাকে। ফলে যখন হেয়ার স্টাইল করার সময় তাপ প্রয়োগ করা হয়, তখন এসব রাসায়নিক বাতাসে মিশে যায় এবং ব্যবহারকারী তা নিশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করেন।

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

ফ্যাশন ও বিউটি ইন্ডাস্ট্রির অপরিহার্য অংশ হিসেবে ক্লিপ-ইন, টেপ-ইন বা মাইক্রো-লিংক হেয়ার এক্সটেনশনগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ সারা বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এমনকি টেইলর সুইফট বা ইভানকা ট্রাম্পের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারাও এগুলো ব্যবহার করেন। এই বিশাল চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিশেষজ্ঞরা এখন কৃত্রিম চুল বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। সম্ভব হলে রাসায়নিকমুক্ত বা শংসাপত্রপ্রাপ্ত নিরাপদ বিকল্প ব্যবহারের দিকে নজর দিতে জোর দিয়েছেন তারা।

এই গবেষণা স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং ভোক্তাদের নিরাপদ পণ্য বেছে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহারের আগে এর উপাদান সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি, যাতে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো যায়।