বর্তমান সময়ে লিভার সিরোসিস, কিডনি ড্যামেজ ও ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন। আধুনিক জীবনের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অবহেলা ও অসচেতনতা এই পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করছে। অথচ সুস্থ শরীরই মানুষের সবচেয়ে বড় নিয়ামত, যার মূল্য অনেকেই বোঝেন অসুস্থ হওয়ার পর।
শরীর আল্লাহর আমানত
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মানুষের শরীর আল্লাহর দেওয়া এক মূল্যবান আমানত। তাই এই আমানতের সঠিক যত্ন নেওয়া, সুস্থ রাখা এবং ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকা প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব। শনিবার (১৬ মে) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
জাঙ্কফুডের প্রবণতা বাড়ছে
শায়খ আহমাদুল্লাহ উল্লেখ করেন, লিভার সিরোসিস, কিডনি ড্যামেজ কিংবা ক্যান্সারে প্রতিদিন অসংখ্য তরতাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। তারপরও থেমে নেই জাঙ্কফুড, ভাজাপোড়া, কোমল পানীয়, ধূমপান কিংবা মাদক সেবনের প্রবণতা। প্রতিটি জেলা শহরেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ফুডকোর্ট, রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুডের দোকান। ঘরের খাবারের চেয়ে বাইরের খাবার প্রিয় হয়ে উঠছে। ছুটির দিনে আগে মানুষ ঘাস, গাছ, নদী বা সমুদ্রের কাছে ঘুরতে যেত; এখন সেটা মানেই দলবেঁধে রেস্টুরেন্টে যাওয়া।
মুদি দোকানে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের প্রাধান্য
মহল্লায় মহল্লায় মুদি দোকানে কোমল পানীয়, চিপস ইত্যাদি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যদ্রব্য সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, খেয়াল করলে দেখা যায়, দোকানের বাইরের দিকে রাখা হয় কোমল পানীয়ের ফ্রিজ, হাতের নাগালে ঝোলানো থাকে চিপসের প্যাকেট। প্রতিদিন এত পরিমাণে এসব পণ্য বিক্রি হয় যে দোকানিরা ক্রেতার হাতেই বুঝে নেওয়ার ভার ছেড়ে দেন। এর করুণ ফল আমরা প্রতিমুহূর্তে প্রত্যক্ষ করছি। দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে ডায়ালাইসিসের জন্য সহজে স্লট খালি পাওয়া যায় না।
দেশি ফলের প্রতি অনাগ্রহ
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এই প্রজন্ম ফল খেতে চায় না। যারা খায়, তাদের পছন্দের শীর্ষে থাকে বিদেশি ফল। অথচ দেশি মৌসুমি ফলমূল অনেক বেশি সাশ্রয়ী, পুষ্টিকর এবং টাটকা। একটা জনপদের প্রায় সকল মানুষ ক্ষতি জানার পরও ক্ষতির দিকে দৌড়াচ্ছে, যা শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব।
সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সরকার জনগণের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার-পানীয় নিশ্চিত করতে পারেনি।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের আহ্বান
নিজেদের রসনাকে সংযত রাখার আহ্বান জানিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মুখরোচক অস্বাস্থ্যকর খাবার নয়, বরং পরিমিতির সাথে স্বাস্থ্যকর খাবার খান, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করুন।



