পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে পলি রানী
পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে পলি রানী

জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী পলি রানী (১৮) পা দিয়ে লিখেই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গদাই গ্রামের রুপালি রানীর মেয়ে। কাউনিয়া সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী পলি পার্শ্ববর্তী কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন।

প্রতিকূলতা পেরিয়ে শিক্ষার পথে

পলির মা রুপালি রানী জানান, ছোটবেলায় স্বামী হারানোর পর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে মেয়েকে এতদূরে নিয়ে আসতে হয়েছে। জন্ম থেকেই পলির হাতের আঙুল নেই; হাত ছোট ও বাঁকা হওয়ায় তিনি কলম ধরতে পারেন না। তবে অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাকে থামাতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই ডান পা দিয়ে লেখা শুরু করেন পলি। দীর্ঘদিনের কঠোর সাধনা ও প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তির কারণে তিনি এখন পা দিয়েই স্বাভাবিক গতিতে লিখতে পারেন।

শিক্ষকদের সহযোগিতা ও সাফল্য

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির পর সহপাঠীদের উপহাসের শিকার হতে হয়েছিল পলিকে। তবে শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা ও উৎসাহ তাকে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে আসতে সাহায্য করেছে। লেখাপড়ার প্রতি পলির প্রচণ্ড আগ্রহ ও একাগ্রতার কারণে এখন সহপাঠীরাও তাকে আপন করে নিয়েছে। পঞ্চম শ্রেণিতে এ-গ্রেড পেয়ে নিজের মেধার প্রমাণ দেন তিনি। এসএসসি পরীক্ষায়ও কাউনিয়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে এ-গ্রেড অর্জন করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বপ্ন ও লক্ষ্য

পলি রানী জানান, তার স্বপ্ন একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়া। মানুষের সেবা করাই তার জীবনের লক্ষ্য। তিনি বিশ্বাস করেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই মানুষের স্বপ্নপূরণে প্রতিবন্ধক হতে পারে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের সহযোগিতা

কাউনিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পলি কখনও প্রতিবন্ধকতাকে অজুহাত বানায়নি। সে নিয়মিত ক্লাস করেছে, পড়াশোনায় মনোযোগী এবং ভদ্র ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত।’ শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থী হিসেবে পলির জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করে পলি রানীর পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। তার উত্তরপত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে বোর্ডে পাঠানো হচ্ছে।’