সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, বর্তমানে দেশে একটি 'ফিল গুড' ও আত্মতুষ্টির আবহ বিরাজ করছে। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকের মতো একটি পরীক্ষায় ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ না নেওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এটি সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশার একটি প্রতিফলন।
শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির অর্থ কী?
হোসেন জিল্লুর রহমান প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না? তিনি মনে করেন, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক উত্তর দেওয়া উচিত নয়, বরং গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন। তিনি বলেন, 'আমাদের গবেষক, নীতিনির্ধারক বা যারা কমেন্ট করছেন, আমরা কেউই বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পারছি না।'
জুলাই আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের কথা শোনা হয়নি
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দুই বছর আগে জুলাই মাসে একটি বিরাট গণ–আন্দোলন হয়েছিল, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। কিন্তু জুলাই পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার বা সামাজিক অভিজাতরা কেউই ছাত্রছাত্রী তথা যুবসমাজের কথা শোনেননি। তিনি বলেন, 'তাদের বেদনা, আকাঙ্ক্ষা ও বিভ্রান্তি—সবগুলো নিয়ে আমরা গভীরভাবে বোঝার চেষ্টাটা করিনি।'
শোনার সংস্কৃতির অভাব
হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, শোনার জায়গাটাকে বাদ দিয়ে নানা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, '৩৬ শতাংশ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছে না, তাহলে কি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর একধরনের নো–কনফিডেন্সের বিষয় দাঁড়িয়ে গেছে?' তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি রাষ্ট্র ও শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে রাষ্ট্রের কোনো ভবিষ্যৎ থাকবে না।
অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষায় মনোযোগ প্রয়োজন
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মনোযোগের কেন্দ্রে তিনটি বিষয়: অর্থনীতি, ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক ও শিক্ষা। শিক্ষা নতুন প্রজন্মের উন্নতির বাহন হলেও এ বিষয়ে পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, 'ট্রিলিয়ন ডলার আয়ের মতো লক্ষ্যমাত্রা কাগজের বিষয় হয়ে যাবে, যদি এই প্রজন্মকে আমরা শোনার সংস্কৃতির বাইরে রাখি।'
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনভিপ্রেত ঘটনা
জুলাই আন্দোলনের পর শিক্ষকদের অপমান ও অপদস্থ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মব সৃষ্টি ও দলীয় পদায়নের মতো ঘটনা ঘটেছে। হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন, এগুলো শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অনীহা সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি সততার সঙ্গে আত্মমূল্যায়নের ওপর জোর দেন এবং বলেন, 'এর কোনো বিকল্প নেই।'
তিনি সবাইকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কথা শোনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'এখন দরকার হলো শোনার ব্যাপারটা। শিক্ষকদের শুনতে হবে, ছাত্রছাত্রীদের শুনতে হবে এবং তাদের বাবা–মায়েদেরও শুনতে হবে।'



