দখল, অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত দেশের অন্যতম বেসরকারি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (ট্রাস্টি বোর্ড) ভেঙে দিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে আটটি শর্ত জুড়ে দিয়ে চার সদস্যের একটি নতুন ‘বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনস’ গঠন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ্-উল-ইসলামকে এই নতুন বোর্ডের চেয়ারম্যান (সভাপতি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন জারি
রবিবার (৫ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত জরুরি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০’-এর ৩৫(৭) ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ তীব্র বিরোধের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায়, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এই বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনস গঠন করা হলো।
নতুন বোর্ডের সদস্যরা
নতুন গঠিত এই প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের তালিকা নিম্নরূপ—
- সভাপতি (চেয়ারম্যান): অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ্-উল-ইসলাম (অধ্যাপক, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।
- সদস্য: অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুন (সাবেক চেয়ারম্যান, ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।
- সদস্য: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মনজুরুল আলম (সাবেক ডিন, সেন্টার ফর হায়ার স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, বিইউপি)।
- সদস্য (পদাধিকারবলে): মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (যদি বর্তমানে কর্মরত থাকেন)।
আটটি শর্ত
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে নতুন বোর্ডের কাজের পরিধি ও মেয়াদ নির্ধারণ করে ৮টি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
- অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ্-উল-ইসলামকে সাময়িকভাবে বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসের সভাপতি এবং অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুন এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মনজুরুল আলমকে সদস্য হিসেবে এক বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করা হলো। তবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই নিয়োগ যেকোনও সময় বাতিল করতে পারবেন।
- বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে একটি নিয়মিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজ পুনর্গঠনপূর্বক তা অনুমোদনের জন্য কমিশন মারফত রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর এর নিকট প্রেরণ করবেন এবং রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর পুনর্গঠিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজ অনুমোদন করা মাত্র বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনস বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে।
- অনিবার্য কারণবশত বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনস এক বছর সময়ের মধ্যে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ পুনর্গঠন করতে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসের মেয়াদ অনধিক ছয় মাস বৃদ্ধি করতে পারবেন।
- বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যগণ কমিশন প্রণিত নীতিমালা-নির্দেশনা ও ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিধিমালা অনুযায়ী বৈঠক ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্ত হবেন।
- বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনস বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবে।
- বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনস বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অথবা তার মনোনীত একজন সদস্য কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে প্রতি তিন মাসে ন্যূনপক্ষে একটি সভা করবে।
- রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের নিকট উপস্থাপনের জন্য বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসের প্রতি তিন মাসে তাদের কাজের অগ্রগতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন কমিশন বরাবর প্রেরণ করবেন।
- রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োজিত উপাচার্য (যদি থাকেন) পদাধিকারবলে বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসের সদস্য হবেন।



