সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তবে শুধু ইংরেজি জানা আর ইংরেজি শিক্ষাদান করার মতো বিষয়ের মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাত। আমাদের দেশে ইংরেজি শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি এবং আধুনিক শিক্ষণপদ্ধতির সঠিক সমন্বয় না থাকায় অনেক সময়ই শিক্ষার্থীরা ভাষাটি সঠিকভাবে রপ্ত করতে পারে না। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে দেশের শিক্ষাঙ্গনের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট (আইএমএল) পরিচালনা করছে একটি অনন্য ও যুগোপযোগী পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম প্রফেশনাল এমএ ইন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং বা পিএমইএলটি।
মূলত যাঁরা ভবিষ্যতে ইংরেজি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান কিংবা যাঁরা বর্তমানে এই পেশায় নিয়োজিত থেকে নিজেদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে চান, তাঁদের জন্যই সাজানো হয়েছে এই উচ্চতর শিক্ষাক্রম। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এই কোর্সে ইতিমধ্যে ভর্তির আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য দ্বিতীয় বা বিদেশি ভাষা হিসেবে ইংরেজি শেখানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক থেকে দক্ষ করে তোলা। আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে ইংরেজিকে সহজ ও কার্যকর উপায়ে শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করা যায়, তার ওপর এই কোর্সে বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
ভর্তির যোগ্যতা ও পরীক্ষা
পিএমইএলটি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদনকারীদের শিক্ষাজীবনের প্রতিটি স্তরে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণি অথবা ২.৫ সিজিপিএ (CGPA) থাকতে হবে। যেহেতু এটি একটি উচ্চতর ইংরেজি শিক্ষাদান পদ্ধতি বিষয়ক কোর্স, তাই আবেদনকারীদের ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা থাকা আবশ্যক। চূড়ান্ত সিলেকশনের সময় প্রতিটি প্রার্থীর ইংরেজি রিডিং, রাইটিং এবং স্পিকিং দক্ষতার একটি বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া হবে, যার তারিখ পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া চার বছর মেয়াদি ইংরেজি বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী, অথবা দুই বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তিন বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রিধারীরা এতে আবেদন করতে পারবেন। এমনকি অন্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো প্রার্থীর কোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম দুই বছর ইংরেজি পড়ানোর অভিজ্ঞতা (প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রত্যয়িত) থাকে, তবে তিনিও এই কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে যাঁরা শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করলে তাঁদের এই ভর্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কর্মজীবী শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এই কোর্সের ক্লাসগুলো সাজানো হয়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এবং সপ্তাহের অন্যান্য দিনের সন্ধ্যায়।
ভর্তিপ্রক্রিয়া
ভর্তিপ্রক্রিয়া সহজ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অফলাইন ও অনলাইন—উভয় মাধ্যমই উন্মুক্ত রেখেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৪ জুন ২০২৬ থেকে যেকোনো কার্যদিবসে (সকাল ৯:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা এবং বেলা ২:০০টা থেকে বিকেল ৪:০০টা) আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ১০১ নম্বর কক্ষে জনাব অয়ন বসাকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। আগামী ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত ২,০০০ টাকা ফি প্রদানের মাধ্যমে এই ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। আবেদনের সঙ্গে প্রার্থীর সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্টের সত্যায়িত কপি এবং দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিতে হবে। যাঁরা সশরীরে আসতে পারবেন না, তাঁরা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট পোর্টাল ব্যবহার করে অনলাইনেও আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ জুলাই ২০২৬। এরপর আগামী ১৮ জুলাই ২০২৬ (শনিবার) বিকেল ৩:০০টায় ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে। ফলাফল প্রকাশের পর ৯ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং আগামী ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে নতুন ব্যাচের আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু হবে।
যোগাযোগ
ভর্তিসংক্রান্ত যেকোনো বিস্তারিত তথ্যের জন্য আগ্রহীরা অফিস চলাকালীন সময়ে +৮৮ ০২ ৯৬৬১৯২০-৭৩ (এক্সটেনশন ৮৫২১) অথবা +৮৮০১৫৫০-৭২০৮৬৯ নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত আপডেটের জন্য তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপে যুক্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



