প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান শিক্ষার্থীদের দক্ষ হয়ে ওঠার জন্য উৎসাহিত করেছেন, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে একটি দক্ষ, অভিযোজনক্ষম এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত প্রজন্মের ওপর। এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমতের কোনো সুযোগ নেই।
শুধু কথায় দক্ষতা গড়ে না
তবে দক্ষতা বা যোগ্যতা শুধু কথায় গড়ে ওঠে না। বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্ম যদি দক্ষ, যোগ্য এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হতে চায়, তাহলে তাদের প্রয়োজন সম্পদ, অবকাঠামো এবং টেকসই সহায়তা।
আগামী অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, যা কাগজে কলমে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীদের বাস্তব চিত্রের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
শ্রেণিকক্ষের বাস্তবতা
আমরা উন্নতি ও অগ্রগতির কথা বলতে পারি, কিন্তু যদি শ্রেণিকক্ষগুলো অতিরিক্ত ভর্তি থাকে, শিক্ষকরা অপ্রশিক্ষিত থাকেন, এবং শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও অবকাঠামো না থাকে, তাহলে আমরা পিছিয়ে পড়ব।
এটি শুরু হতে হবে তহবিলের পূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে, যা কেবল নির্মাণ প্রকল্প বা চিত্তাকর্ষক সরঞ্জাম ক্রয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে হবে।
শিক্ষায় প্রকৃত মনোযোগ প্রয়োজন
বাংলাদেশ যদি সত্যিই একটি দক্ষ প্রজন্ম গড়তে চায়, তাহলে রাষ্ট্রকে শিক্ষার প্রতি প্রকৃত মনোযোগ দিতে হবে, শুধু কথা বললেই চলবে না। শিক্ষক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে পাঠ্যক্রম সংস্কার এবং গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা—শিক্ষায় একটি ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।
দক্ষতা-ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হলে এমন একটি ব্যবস্থা দরকার যা প্রতিভাকে লালন করে এবং বাধাগুলো দূর করে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান স্বাগত ও অনুপ্রেরণাদায়ক, কিন্তু তা বাস্তব সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে হবে।



