রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গদাই গ্রামের কলি রানী এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন পা দিয়ে লিখে। জন্ম থেকেই তাঁর দুই হাতের কবজি না থাকলেও শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা তাঁর পড়াশোনার পথে বাধা হতে পারেনি। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি।
পরীক্ষার হলে পা দিয়েই লিখছেন কলি
পরীক্ষার হলে সবাই যখন হাতে লিখছেন, তখন কলি রানী লিখছেন ডান পা দিয়ে। ছোট্ট একটি বেঞ্চে খাতায় লিখতে থাকা কলি রানীর এই লড়াই এখন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। কেন্দ্রসচিব রফিকুল ইসলাম জানান, অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতোই কলি রানী পরীক্ষার হলে বসে পা দিয়ে লিখছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে।
শৈশব থেকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি
কলি রানীর বাড়ি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের গদাই গ্রামে। তিনি রুপালী রানীর মেয়ে। জন্ম থেকেই তাঁর দুই হাতের কবজি নেই। মৃত মনোরঞ্জন রায়ের ছয় সন্তানের মধ্যে কলি রানী সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই অন্যদের মতো কলম হাতে তুলে নিতে পারেননি, কিন্তু ধীরে ধীরে ডান পা দিয়ে লেখা শিখেছেন।
শিক্ষাজীবনে সাফল্য
পা দিয়ে লিখেই তিনি পঞ্চম শ্রেণিতে এ গ্রেড পেয়েছিলেন। পরে এসএসসিতেও কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এখন সেই অদম্য মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার খাতায়ও নিজের ভবিষ্যতের গল্প লিখছেন পা দিয়ে, কিন্তু মাথা উঁচু করে।
গান ও প্রযুক্তিতেও দক্ষ
কলি রানী শুধু লেখাপড়াই নন, গানও করেন। গান গেয়ে ইতিমধ্যে অর্জন করেছেন একাধিক সম্মাননা ও স্মারক। প্রযুক্তির ব্যবহারেও তিনি পিছিয়ে নেই। পা দিয়েই চালাতে পারেন কম্পিউটার ও মুঠোফোন। তাঁর স্বপ্ন, একদিন বিসিএস ক্যাডার হয়ে মানুষের সেবা করবেন।
পরিবারের সমর্থন ও প্রশাসনের পাশে থাকার অঙ্গীকার
কলি রানীর ভাই মন্টু রাম রায় বলেন, জন্ম থেকেই তাঁর বোনের হাতের আঙুল নেই, হাত ছোট ও বাঁকা হওয়ায় হাতে কলম ধরা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই কলির ইচ্ছাশক্তি ছিল অসাধারণ। ধীরে ধীরে ডান পা দিয়ে লেখা শিখে নেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কলি রানীকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। উপজেলা প্রশাসন চায়, তাঁর এই অদম্য অগ্রযাত্রা যেন কোনোভাবেই থেমে না যায়। তিনি যেন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন, সে পথচলায় প্রশাসন তাঁর পাশে থাকবে।



