বাংলাদেশের নতুন শিক্ষাক্রম: শিক্ষার্থীদের জন্য বড় পরিবর্তন আসছে
নতুন শিক্ষাক্রম: শিক্ষার্থীদের জন্য বড় পরিবর্তন

বাংলাদেশের শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন আসছে। নতুন কারিকুলামে ১০ম শ্রেণির পর বিভাগ বিভাজন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যায়ন পদ্ধতি ও পরীক্ষা পদ্ধতিতেও আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৫ সাল থেকে এই নতুন কারিকুলাম কার্যকর হবে।

নতুন কারিকুলামের মূল বৈশিষ্ট্য

নতুন কারিকুলামে ১০ম শ্রেণির পর বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের বিভাজন বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীরা তাদের আগ্রহ ও দক্ষতা অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করতে পারবে। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, 'নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের বিষয়গুলো বেছে নিতে পারবে। এতে তাদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বিকাশে সহায়তা হবে।' তিনি আরও জানান, এই কারিকুলাম প্রণয়নে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন

নতুন কারিকুলামে মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার ভিত্তিতে নয়, বরং তাদের সার্বিক কর্মদক্ষতা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়ার চাপ কমবে এবং তারা আরও সৃজনশীল হতে পারবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

এছাড়া পরীক্ষা পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পাবলিক পরীক্ষা হবে না। শুধু ১০ম শ্রেণির শেষে একটি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শিক্ষা ও কর্মজীবন নির্ধারিত হবে।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ

নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে সব শিক্ষককে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষকরা বলছেন, নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে তাদের প্রস্তুতি নিতে সময় লাগবে। তবে তারা আশাবাদী যে এই কারিকুলাম শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী হবে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া

নতুন কারিকুলাম ঘোষণার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক শিক্ষার্থী এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বিভাগ বিভাজন বাতিল হওয়ায় তারা তাদের পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়তে পারবেন।

অন্যদিকে, কিছু অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, নতুন পদ্ধতিতে তাদের সন্তানরা সঠিক দিকনির্দেশনা পাবে কি না, তা নিয়ে তারা শঙ্কিত। তবে শিক্ষামন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, এই কারিকুলাম বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।