বাংলাদেশের নতুন শিক্ষানীতি ঘোষণা, বাধ্যতামূলক শিক্ষা ১২ বছর
বাংলাদেশের নতুন শিক্ষানীতি ঘোষণা, বাধ্যতামূলক শিক্ষা ১২ বছর

বাংলাদেশ সরকার নতুন শিক্ষানীতি ২০২৪ ঘোষণা করেছে, যেখানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত ১২ বছর বাধ্যতামূলক শিক্ষা চালু করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

নতুন শিক্ষানীতির মূল বৈশিষ্ট্য

নতুন শিক্ষানীতিতে প্রাক-প্রাথমিক (২ বছর), প্রাথমিক (৫ বছর) এবং মাধ্যমিক (৫ বছর) মিলিয়ে মোট ১২ বছর বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর আগে প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত বাধ্যতামূলক শিক্ষা ছিল ৫ বছর। নতুন নীতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আমরা চাই প্রতিটি শিশু কমপক্ষে ১২ বছর শিক্ষা গ্রহণ করুক। এটি তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে।' তিনি আরও জানান, নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ করা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ

নতুন নীতিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা শুরু করার সুযোগ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের আগ্রহ অনুযায়ী বিভিন্ন ট্রেড বেছে নিতে পারবে। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু থাকবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. আব্দুল কাদের জানান, 'আমরা ইতোমধ্যে ১০০টি মডেল স্কুলে বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু করেছি। আগামী পাঁচ বছরে এটি দেশের সব স্কুলে সম্প্রসারণ করা হবে।'

শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ

নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের জন্য ৫০ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'শিক্ষকদের মান উন্নয়ন না করে শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য একটি নতুন প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপন করা হবে, যেখানে আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

শিক্ষার আধুনিকায়ন

নতুন নীতিতে ডিজিটাল শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগ ও ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে শিক্ষা উপকরণ সহজলভ্য করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ২০ হাজার স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে সব স্কুলকে ইন্টারনেটের আওতায় আনা হবে।

বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও শিক্ষকের অভাব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, '১২ বছর বাধ্যতামূলক শিক্ষা একটি ভালো উদ্যোগ, তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা থাকা জরুরি।'

নতুন শিক্ষানীতি ২০২৫ সাল থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এই নীতি বাস্তবায়নে সরকার আগামী পাঁচ বছরে মোট ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।