চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিনব আহ্বান: পড়াশোনা বাদ দিয়ে ফুল দেখুন, প্রেমে পড়ুন
চীনের একটি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য এক ব্যতিক্রমী নির্দেশনা জারি করেছে। সিচুয়ান সাউথওয়েস্ট ভোকেশনাল কলেজ অব এভিয়েশন শিক্ষার্থীদের বসন্তকালীন ছুটির সময় বইপত্র সরিয়ে রেখে 'ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ এবং প্রেমে পড়ার' আহ্বান জানিয়েছে। চীনা সমাজে, যেখানে ভালো গ্রেড পাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে, সেখানে এই ধরনের নির্দেশনা অত্যন্ত বিরল।
ছুটির থিম: ফুলের দেখা ও রোমান্স উপভোগ
বুধবার (১৮ মার্চ) কলেজটি তাদের অফিসিয়াল উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই বিশেষ ছুটির থিম হিসেবে 'ফুলের দেখা ও রোমান্স উপভোগ' করার ঘোষণা দিয়েছে। চীন সরকার সম্প্রতি প্রথাগত গ্রীষ্ম ও শীতকালীন ছুটির পাশাপাশি স্কুলগুলোতে বসন্ত এবং শরৎকালীন ছুটি চালুর ঘোষণা দেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমন নির্দেশনা এসেছে।
দেশটির সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিচুয়ান ও জিয়াংসু প্রদেশসহ সুঝৌ এবং নানজিংয়ের মতো শহরগুলো ইতিমধ্যে এপ্রিল বা মে মাসের শুরুর দিকে এই বসন্তকালীন ছুটির পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে। মূলত ১৪০ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটিতে পর্যটন ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ অর্থপ্রবাহ সচল রাখাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
জনতাত্ত্বিক সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ
এই উদ্যোগের পেছনে চীনের বর্তমান উদ্বেগজনক জনতাত্ত্বিক চিত্র একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। ২০২৫ সালে টানা চতুর্থ বছরের মতো চীনের জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে এবং জন্মহার রেকর্ড নিচে নেমে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যতে আরও পতনের আশঙ্কা করছেন। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বাইরে কিছুটা অবসর সময় দিলে এবং সামাজিক মেলামেশার সুযোগ করে দিলে তা ভবিষ্যতে চীনের নিম্নগামী জন্মহারের গতিপথ পরিবর্তন করতে সহায়ক হবে।
দেশটির নীতি-নির্ধারকরা এখন পরিবার গঠন এবং সন্তান লালন-পালনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। চীনের প্রখ্যাত জনতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ এবং ট্রিপ ডটকমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেমস লিয়াং সরকারের এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন যে, সন্তান লালন-পালনের জন্য সমাজের পর্যাপ্ত সময় এবং অর্থের প্রয়োজন রয়েছে এবং এই ধরনের উদ্যোগগুলো তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
লিয়াং আরও যোগ করেছেন যে, বড় পরিবারের সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুবিধাগুলো সম্পর্কে তরুণদের শিক্ষিত করতে আরও জোরালো প্রচেষ্টা দরকার। তাঁর মতে, সম্পদ পুনর্বণ্টন এবং আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার একটি ব্যাপক সমর্থক কাঠামো গড়ে তুলতে পারে যা শেষ পর্যন্ত দেশের জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে।
চীনের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন (এনডিআরসি) মঙ্গলবার শিশু-বান্ধব নগর উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি নতুন নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে, যা এই বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এই উদ্যোগগুলো চীনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কীভাবে সহায়তা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।



