মালয়েশিয়ায় আইআইইউএমে দেড় হাজার শিক্ষার্থীর মেগা ইফতার: ভ্রাতৃত্বের অনন্য মিলনমেলা
মালয়েশিয়ায় আইআইইউএমে দেড় হাজার শিক্ষার্থীর মেগা ইফতার

মালয়েশিয়ায় আইআইইউএমে দেড় হাজার শিক্ষার্থীর মেগা ইফতার: ভ্রাতৃত্বের অনন্য মিলনমেলা

পবিত্র মাহে রমজানের বিশেষ আবহে মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া (আইআইইউএম)-এ এক দৃষ্টিনন্দন মেগা ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই বৃহৎ ইফতার অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে এক অনন্য মিলনমেলার সৃষ্টি করেন।

ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা

প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় আয়োজিত এই মেগা ইফতার কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত শিক্ষার্থীরা একত্রে বসে ইফতার করার মাধ্যমে রমজানের প্রকৃত চেতনা—সহমর্মিতা, ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধ—আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ পান।

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পিএইচডি গবেষক আলমগীর চৌধুরী আকাশ বলেন, "রমজানের এই ধরনের আয়োজন শুধু ইফতারে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির শিক্ষার্থীদের একত্রিত হওয়ার একটি সুন্দর সুযোগ তৈরি করে। একসঙ্গে বসে ইফতার করা আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের অনুভূতিকে আরও শক্তিশালী করে।"

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শিক্ষার্থী ডা. ফাতেমা ইসলাম জানান, "এই ধরনের আয়োজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ভিন্ন ভিন্ন দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এখানে একত্রিত হয়ে রমজানের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে, যা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকে।"

পৃষ্ঠপোষকতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এই বৃহৎ ইফতার অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ইখলাস ডটকম। প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৃহৎ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও জোরদার করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

রমজানের পবিত্র আবহে ভিন্ন সংস্কৃতি ও জাতির শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক অনন্য সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই আয়োজন শুধু একটি ইফতার অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মানবিক বন্ধনকে আরও মজবুত করার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।