ইউল্যাব ও ‘কান পেতে রই’-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই: মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় যুগান্তকারী উদ্যোগ
ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থা ‘কান পেতে রই’-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এই সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মানসিক সহায়তা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে সমন্বিত সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো। এই উদ্যোগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের মধ্যে মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা ও সহায়তা কার্যক্রম জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইউল্যাবের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং প্রশাসনিক কর্মীদের জন্য ইমোশনাল সাপোর্ট ও সুইসাইড প্রিভেনশন হেল্পলাইনের মাধ্যমে মানসিক সহায়তা সেবা দেওয়া হবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো তৈরি করবে। সমঝোতা স্মারকে ‘কান পেতে রই’-এর পক্ষ থেকে সই করেন সংস্থাটির হেড অব অপারেশনস অরুণ দাস এবং ইউল্যাবের পক্ষ থেকে সই করেন এসএও-এর ডেপুটি ডিরেক্টর মো. মাহমুদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ ও তাদের বক্তব্য
এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘কান পেতে রই’-এর হেড অব ট্রেনিং অ্যান্ড আউটরিচ আশিক আব্দুল্লাহ। ইউল্যাবের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সামসাদ মর্তূজা এবং রেজিস্ট্রার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল ইসলাম (অব.)। উপস্থিত বক্তারা বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতামূলক কাঠামো তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা
এই সমঝোতা স্মারক শুধুমাত্র হেল্পলাইন সেবা নয়, বরং নিম্নলিখিত দিকগুলোতে বিস্তৃত কার্যক্রম পরিচালনার পথ সুগম করবে:
- মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ সেশন আয়োজন
- শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রচারণা চালানো
- আত্মহত্যা প্রতিরোধে গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা
- বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং সেন্টার স্থাপন
এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি অনুসরণীয় মডেল তৈরি করতে পারে, যা দেশব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
