শাবিপ্রবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন নির্দেশনা, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের পোস্টে আইনি ব্যবস্থা
শাবিপ্রবিতে সোশ্যাল মিডিয়া নির্দেশনা, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নে আইনি ব্যবস্থা

শাবিপ্রবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা জারি

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো পোস্ট ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের ডায়েরিতে প্রক্টরিয়াল নীতিমালা অংশে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এই নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা ও উদ্বেগ

সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, এ ধরনের নির্দেশনা মুক্ত মত প্রকাশের পরিসর সংকুচিত করতে পারে এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল নীতিমালায় শিক্ষার্থীদের প্রতি আবশ্যকীয় নির্দেশনাবলির ৯, ১০ ও ১২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কারও গঠনমূলক সমালোচনা করা যাবে। শব্দচয়নের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কাউকেই ব্যক্তিগত আক্রমণ করা যাবে না। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিয়ে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শেয়ার করা বা লেখার মাধ্যমে অপদস্থ করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন পোস্ট করা যাবে না। কেউ যদি তা করে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাম ও লোগো ব্যবহারে বিধিনিষেধ

অপরদিকে ওয়েবসাইটে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও লোগো ব্যবহার করে আইডি, পেজ বা ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করা যাবে না। প্রক্টরিয়াল বডির অনুমতিতে লোগো ও নাম ব্যবহার করে পেজ পরিচালনা করা যাবে, তবে পরিচালনাকারীদের নাম ও বিস্তারিত তথ্য প্রক্টরিয়াল বডির কাছে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে পেজ পরিচালনাকারী সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ হলে পরিচালনাকারী (অ্যাডমিন) হিসেবে থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও লোগো ব্যবহার করে ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো আইডি, পেজ বা ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করা যাবে না। প্রক্টরিয়াল বডির অনুমতি সাপেক্ষে নাম ও লোগো ব্যবহার করে পেজ পরিচালনা করা যাবে, তবে পরিচালনাকারীদের নাম ও বিস্তারিত তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর আর সেই পেজের প্রশাসক হিসেবে থাকতে পারবেন না।

ছাত্র সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা করে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আফফান লিখেছেন, ‘সবই ঠিক আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সমালোচনা করা যাবে না বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কিছু লিখা যাবে না, এটা মানতে পারলাম না। এখানে প্রতিবাদ জানিয়ে রাখলাম।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সাইফুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো অন্যায় বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেও কিন্তু ভাবমূর্তি নষ্ট হবে, তাহলে যাঁরা এর প্রতিবাদ করবেন তাঁদের সবাইকে কি বহিষ্কার করবেন?’

প্রক্টরের ব্যাখ্যা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেভাবে বিষয়টি ভাবছে প্রকৃতপক্ষে তা নয়। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টি মূলত শিক্ষার্থীরা যাতে গঠনমূলক সমালোচনা করে, ব্যক্তিগত আক্রমণ যেন না করে অর্থাৎ তাদের সমালোচনার শব্দচয়নে যেন সতর্ক থাকে। এটাই মূলত মেসেজ। আমরা ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছি না। তবে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়, শিক্ষার্থীরা সমালোচনা করবে এটাই রীতি। এখানে কোনো বাধা নেই।’ নতুন এই নীতিমালা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর তা পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে প্রক্টর জানান, ‘নতুন নিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের আলোচনা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’