বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, বুয়েটের পরীক্ষা পিছিয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারের জরুরি নির্দেশনা অনুসরণ করে দেশের সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত গত সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে, যা পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির সময়সূচি এগিয়ে আনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বুয়েটের পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পরীক্ষার সময়সূচিতে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক এপ্রিল ২০২৫ সেমিস্টারের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়েছে।
পরীক্ষার নতুন তারিখ: মূলত ৯, ১০ ও ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এমন পরীক্ষাগুলো এখন যথাক্রমে ২৮, ২৯ ও ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অফিস কার্যক্রম ও থিসিস ডিফেন্স চালু থাকবে
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও ৯ থেকে ১৬ মার্চ সময়ে অফিস কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে। এ সময়ে পোস্টগ্র্যাজুয়েট থিসিসের ডিফেন্স নেওয়ারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয় উদ্যোগ
গত রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই লক্ষ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি সরকারের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সংকট মোকাবিলার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা শিক্ষা খাতেও তার প্রভাব ফেলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বন্ধ থাকার সময় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।



