মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকারের সমতুল্য: সর্বমিত্র চাকমা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে অথবা এর বিপরীতে নতুন কোনো রাজনৈতিক বয়ান দাঁড় করানো সম্ভব নয়। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, একাত্তরকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি করার চেষ্টা মূলত ইতিহাসকেই অস্বীকার করার সামিল।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত সাড়ে তিনটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সর্বমিত্র চাকমা এসব কথা বলেন। তিনি লিখেছেন, "একাত্তরকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি করার চেষ্টা ইতিহাসকে অস্বীকার করা। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে নতুন কোনো রাজনৈতিক বয়ান দাঁড় করানো যায় না।"
সমালোচনা ও স্বীকৃতির সমন্বয়
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, শেখ মুজিবুর রহমানের সমালোচনা করা যেতে পারে, বাকশাল নিয়ে হাজারো প্রশ্ন তোলা যাবে, রক্ষীবাহিনীর তাণ্ডব নিয়ে কথা বলতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে স্বীকার করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সেই ভাষণ শুধু একজন নেতার বক্তব্য ছিল না, বরং এটি রেসকোর্স ময়দানে জড়ো হওয়া লক্ষ মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ, বঞ্চনা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার সম্মিলিত উচ্চারণ।
একাত্তরের প্রতিটি বাঁক স্মরণীয়
সর্বমিত্র চাকমা উল্লেখ করেন, একাত্তরের প্রতিটি বাঁক আমাদের জন্য স্মরণের বিষয়। সবাইকে আহ্বান জানিয়ে ডাকসু সদস্য লেখেন, "বাকশাল নিপাত যাক, একাত্তর দালালের হাত থেকে মুক্তি পাক। রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়, একাত্তর হোক গণমানুষের!" তার এই বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি অঙ্গীকার ফুটে উঠেছে।
এই স্ট্যাটাসটি শিক্ষাঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে, যেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে গভীর চিন্তা প্রকাশ করেছেন।



