জাবিতে শিবিরের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ইফতার মাহফিল, প্রায় দেড় হাজার উপস্থিতি
জাবিতে শিবিরের নারী শিক্ষার্থীদের ইফতার, দেড় হাজার উপস্থিতি

জাবিতে শিবিরের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ইফতার মাহফিল, প্রায় দেড় হাজার উপস্থিতি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে প্রায় দেড় হাজার নারী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি সুশৃঙ্খল ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠে এই ইফতারের আয়োজন করা হয়, যা রমজান মাসে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।

ইফতারের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিবিরের আয়োজিত এই ইফতার প্রোগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দেড় হাজারের অধিক নারী শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। ইফতারের জন্য রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যার মাধ্যমে প্রায় ১৬০০ নারী শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছিলেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, "গণ-ইফতার মানেই হচ্ছে পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে একত্রে ইফতার করা, যা আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি করে। আজকের আয়োজন অনেক সুন্দর ছিল এবং খুব সুশৃঙ্খলভাবে হয়েছে, সবাই খাবার পেয়েছে।" তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, ভবিষ্যতে রেজিস্ট্রেশন ও টোকেন ব্যবস্থা আরও উন্নত করা যেতে পারে।

শিবিরের নেতৃত্বের বক্তব্য ও পূর্বের ঘটনার প্রেক্ষাপট

জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "গত ৪ মার্চ আয়োজিত গণ-ইফতারে আমাদের ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক নারী শিক্ষার্থীকে ইফতার পৌঁছে দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এই অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী এবং বিগত দিনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে আজ এই ইফতারের আয়োজন করেছি।" উল্লেখ্য, এর আগে ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অংশীজনদের নিয়ে একটি গণ-ইফতার আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে খাবার বিতরণের অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গিয়েছিল এবং অনেক শিক্ষার্থী খাবার পাননি। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিশেষ ইফতারের আয়োজন করা হয়।

ইফতারে অংশগ্রহণকারী আরেক নারী শিক্ষার্থী বলেন, "শিবির নিজের ভুল শিকার করে আবার আমাদের জন্য এত সুন্দর একটা ইফতার আয়োজন করেছে, এটাই আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। তারা সামনে আরও ভালো করুক।" এই আয়োজনটি রমজানের পবিত্র মাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্যবোধকে শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।