ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ক্যালিগ্রাফি সেলুন: হাজার বছরের শিল্পের প্রদর্শনী
ঢাবিতে চীনা ক্যালিগ্রাফি সেলুন, সংস্কৃতি বিনিময়ের মেলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ক্যালিগ্রাফির সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্তর এলাকা বৃহস্পতিবার রূপ নিয়েছিল চীনা সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রদর্শনশালায়। ল্যান্টিং চীনা ক্যালিগ্রাফি কালচার সেলুন ২০২৬-এর আয়োজনে ক্যাম্পাসটি মুখরিত হয়েছিল সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক অনন্য পরিবেশে।

আয়োজন ও অংশগ্রহণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন পেশা ও বয়সের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অতিথিরা সমবেত হয়েছিলেন পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি প্রাচীন এই শিল্পরীতির স্বাদ নিতে।

অংশগ্রহণকারীরা শুধু চীনা ক্যালিগ্রাফির নান্দনিকতা উপভোগই করেননি, বরং ঐতিহ্যবাহী ব্রাশ ও কালি ব্যবহার করে নিজেরাও চীনা অক্ষর লেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এই হাতে-কলমে শিক্ষার সুযোগ প্রদান করেছে প্রাচীন এই শিল্পরীতির কৌশল ও নান্দনিকতার প্রাথমিক পরিচয়।

সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা ও বিশেষ আয়োজন

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের পরানো হয়েছিল হানফু, যা হলো চীনের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। এই পোশাক পরিধান করায় পুরো অভিজ্ঞতাটি আরও বেশি নিমজ্জিত ও সম্পূর্ণ রূপ পেয়েছে।

অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ ছিল সম্মিলিত ক্যালিগ্রাফি স্ক্রোল তৈরির কার্যক্রম। অংশগ্রহণকারীরা একত্রিত হয়ে একটি দীর্ঘ ক্যালিগ্রাফি স্ক্রোল তৈরি করেন, যা দিনব্যাপী উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণা

চীনা প্রকৌশলী ও ক্যালিগ্রাফার মা ইউনকং তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন এই শিল্পের সাথে। তিনি বলেন, "আমার দাদু আমার ছোটবেলায় ক্যালিগ্রাফির প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করতেন, যা আমাকে প্রায় পাঁচ বছর বয়সে এটি শেখা শুরু করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। আমি প্রায় দশ বছর ধরে নিয়মিত অনুশীলন করেছি। বড় হওয়ার পর আমি বাংলাদেশে কাজ করতে এসেছি কিন্তু এই আগ্রহ অব্যাহত রেখেছি। এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত কারণ এটি আরও বেশি মানুষকে চীনা সংস্কৃতি, বিশেষ করে এর ঐতিহ্যবাহী দিকটি আবিষ্কার করার সুযোগ দিচ্ছে।"

সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব

বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর লি শাওফেং এই অনুষ্ঠানকে বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, "এটি বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি সুন্দর প্রতীক। চীন ও বাংলাদেশ উভয়ই প্রাচীন সভ্যতার দেশ। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে আমাদের জনগণ একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে এবং আমাদের বন্ধুত্ব দৃঢ়তর হয়। আসুন আমরা একসাথে কাজ করি যাতে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধন অব্যাহতভাবে বিকশিত হয় এবং আমাদের দুই দেশের সংস্কৃতি পাশাপাশি এগিয়ে যায়।"

অনুষ্ঠানের প্রভাব ও তাৎপর্য

আয়োজকদের মতে, এই অনুষ্ঠান অংশগ্রহণকারীদেরকে শুধু ক্যালিগ্রাফি শিল্পরীতির একটি ঝলকই প্রদান করেনি, বরং তাদেরকে "আমার চীনা স্টাইল" নামে বর্ণিত একটি সত্যিকারের স্বাদ প্রদান করেছে। অংশগ্রহণকারীদের মতে, এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় অনুষ্ঠান পারস্পরিক বোঝাপড়া গভীর করতে এবং উভয় দেশের জনগণের মধ্যে সংযোগ শক্তিশালী করতে অর্থপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই আয়োজন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই নয়, বরং দুই প্রাচীন সভ্যতার মধ্যে সেতুবন্ধন রচনার একটি কার্যকরী মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান প্রমাণ করেছে যে শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমেই মানুষের হৃদয়ের সবচেয়ে গভীর সংযোগ স্থাপিত হতে পারে।