ঢাবি উপাচার্যের পদত্যাগ: মেয়ের আবেগঘন পোস্টে উঠে এলো বাবার ত্যাগের গল্প
ঢাবি উপাচার্যের পদত্যাগ: মেয়ের আবেগঘন পোস্ট

ঢাবি উপাচার্যের পদত্যাগ: মেয়ের আবেগঘন পোস্টে উঠে এলো বাবার ত্যাগের গল্প

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। তবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি বহাল থাকবেন। এই পদত্যাগের মধ্যেই শিক্ষক বাবাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তার মেয়ে ফাতিহা মুনজারিন খান সিদ্দিকা।

মেয়ের পোস্টে বাবার প্রতি শ্রদ্ধা

ফাতিহা মুনজারিন খান সিদ্দিকা বর্তমানে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করছেন এবং তিনি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের একমাত্র সন্তান। তিনি তার বাবা ও মা মুশতারী খানের সঙ্গে উপাচার্য দপ্তরের একটি গ্রুপ ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে লিখেছেন, ‘একজন মানুষের দায়িত্বের পেছনে কত ত্যাগ থাকে। আমরা দেখেছি তার পরিশ্রম, তার দোয়া, তার নীরব সংগ্রাম।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এমন একজন মানুষের মেয়ে হতে পেরে আমি গর্বিত। কত মানুষ তাকে সম্মান দিয়ে বিদায় দিল, কিন্তু আমরা জানি— এই সম্মানের পেছনে ছিল তার নির্ঘুম রাত, নীরব ত্যাগ আর অগণিত দোয়া।’

পদত্যাগের পেছনের কারণ

উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র দেন অধ্যাপক খান। পদত্যাগপত্রে উপাচার্য ‘ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাবির উপাচার্য দপ্তরের কর্মকর্তারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছিলেন ঢাবি উপাচার্য। সেদিন তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘আপৎকালীন পরিস্থিতি দূর হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমি এখন মনে করছি, দায়িত্ব পালনের পর্বে আমরা একটি ভালো পর্যায়ে এসেছি এবং আমি সরে দাঁড়াতে চাই।’

ফাতিহা তার পোস্টের শেষে লিখেছেন, ‘আজ একটি অধ্যায় শেষ। কিন্তু আমাদের গর্বের গল্প কখনো শেষ হবে না। আজ তিনি চেয়ার ছেড়েছেন মাথা উঁচু করে। কোনো দাগ নয়, শুধু সম্মান আর অর্জনের স্মৃতি রেখে। আব্বু, তোমাকে নিয়ে আমাদের গর্ব ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

এই ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাদের সমর্থন ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। অধ্যাপক খানের পদত্যাগ এবং তার মেয়ের আবেগঘন পোস্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।