পদোন্নতির দাবিতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অবরুদ্ধ
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে পদোন্নতির দাবিতে কর্মচারীরা অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। রোববার সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চেয়ারম্যানের কক্ষে এই অবরোধ চলে। অবরুদ্ধ অবস্থায় চেয়ারম্যানের সাথে বোর্ডের সচিব আব্দুর রাজ্জাক, উপসচিব আব্দুস সালাম ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনও আটকা পড়েন।
কর্মচারীদের দাবি ও বিক্ষোভের কারণ
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে বর্তমানে ১০৮ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। কর্মচারীদের দাবি অনুযায়ী, গত ১৭ বছর ধরে তাদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া থমকে আছে। ২০১৭ সালে মাত্র ২০ জন কর্মচারীর পদোন্নতি হলেও বাকিদের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। একাধিকবার চেয়ারম্যান ও সচিবের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা সত্ত্বেও কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় তারা এই আন্দোলনের পথ বেছে নেন।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মওদুদ উল করীম বলেন, 'আমরা ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে যোগদান করেছি। ২০১৪ সালে চাকরি স্থায়ীকরণের পর ২০১৭ সালে কয়েকজনের পদোন্নতি হয়। কিন্তু বাকিদের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতে সিনিয়রিটি নিয়ে মামলা চলমান থাকার অজুহাত দেখানো হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও ২০ জনের পদোন্নতি কীভাবে সম্ভব হলো? সুষ্ঠু সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাব এবং প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যাব।'
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও আলোচনা
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তমালিকা পাল ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুন্নবী। বিকেলের দিকে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিব আব্দুর রাজ্জাক মুঠোফোনে জানান, 'পদোন্নতি নিয়ে হাইকোর্টে একটি মামলা চলমান রয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা ও পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। আজ কর্মচারীরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমাদের অবরুদ্ধ করেছেন। ইউএনও ও ওসির উপস্থিতিতে আমরা আলোচনায় বসেছি এবং জটিলতা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।'
আন্দোলনের পটভূমি ও সম্ভাব্য সমাধান
কর্মচারীদের অভিযোগ, ২০১৭ সালের পর থেকে পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। তারা দাবি করেন যে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে তাদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, বোর্ড কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো আইনি জটিলতা ও নীতিমালার বাধ্যবাধকতার কারণে পদোন্নতি প্রক্রিয়া দেরি হচ্ছে।
বর্তমানে চলমান আলোচনায় উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় এই সংকট দ্রুত নিরসনের আশা করা হচ্ছে। তবে কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যদি তাদের দাবি পূরণ না হয়, তাহলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছেন।
