টিএফজিবিভি প্রতিরোধে হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন ইউল্যাবের সিএসই দল
প্রযুক্তি-সহায়তায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে আয়োজিত একটি হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) দল। দেশের ১৪টি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর মধ্যে তারা তাদের উদ্ভাবনী সমাধান ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে জয়লাভ করেছে।
প্রতিযোগিতার বিবরণ ও বিজয়ী দল
এই হ্যাকাথনটি আয়োজন করে বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) এবং আয়োজক হিসেবে ছিল ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ী ইউল্যাব দলের সদস্য ছিলেন মি. সাইফুল ইসলাম ও ফাহাদ আল নোমান, যাদের পরামর্শদাতা ছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া।
দলটি প্রযুক্তি-সহায়তায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অসাধারণ উদ্ভাবন ও কারিগরি দক্ষতা প্রদর্শন করেছে। তাদের এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ চ্যাম্পিয়ন দলকে সার্টিফিকেট ও পুরস্কার অর্থ প্রদান করা হয়।
আয়োজক সংস্থা ও উদ্দেশ্য
বিএনএনআরসি একটি জাতীয় সংস্থা যা বাংলাদেশে কমিউনিটি মিডিয়া ও ডিজিটাল উন্নয়ন প্রচার করে আসছে। ২০০৬ সাল থেকে তারা জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটির (ইউএন ডব্লিউএসআইএস) কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এই হ্যাকাথনের মাধ্যমে তারা প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করতে চেয়েছে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ১৪টি দল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছিল। ইউল্যাবের সিএসই দল তাদের কারিগরি জ্ঞান ও সৃজনশীল পদ্ধতির মাধ্যমে বিচারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।
প্রতিযোগিতার গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সাথে সাথে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার নতুন নতুন রূপ দেখা দিচ্ছে। এই ধরনের হ্যাকাথনগুলো তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সমাধান উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউল্যাব দলের সাফল্য বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি ও সামাজিক সমস্যা সমাধানের দিকে ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়।
এই বিজয় শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতায় সাফল্যই নয়, বরং প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার ও সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে অনুরূপ উদ্যোগগুলো আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
