ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে নারীকে লাঠি হাতে তেড়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গভীর রাতে এক নারীকে লাঠি হাতে তেড়ে আসার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা গেছে
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী আহমেদ রাকিব লাঠি হাতে ঐ নারী শিক্ষার্থীর দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। সেই ভিডিওতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পারফরম্যান্স বিভাগের শাহরিয়ার তুষারকেও দেখা যায়। ভিডিওতে সেই নারী কান্নায় ভেঙে পড়ে বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, ওই ছাত্র তাদের ‘প্রস্টিটিউট’ বলে সম্বোধন করেছেন। ভিডিওতে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে আমার গায়ে কেন হাত তুলবে?’ ওই নারীকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘রাতে কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে যাতায়াত করা নিষেধ? আমাদের কোনো প্রশ্নই করে নাই। আমরা নাকি প্রস্টিটিউট।’
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আমরা মেয়েরা সেফ না। ৫ আগস্টের পরে আমরা সেফ না। আমরা আন-সেফ। ভার্সিটির ছেলেরা আমাদের ধরে মারে। আমাদের ড্রেসে কি লেখা আছে আমরা প্রস্টিটিউট?’ অপর আরেকজন নারীকে কেঁদে কেঁদে বলতে শোনা যায়, ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছেলে হয়ে আমার গালে কেন থাপ্পড় মারবে? আমি কি বাংলাদেশের বাইরে থেকে আসছি? আমি এখানে আসতে পারি না?’
তারা দাবি করেন, পুরান ঢাকা থেকে সেহরি খেয়ে টিএসসিতে ঘুরতে এসেছিলেন। এক পর্যায়ে তাদেরকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে ভিডিওতে অভিযোগ করতে দেখা যায়।
অভিযুক্ত ছাত্রের পটভূমি ও তদন্তের অগ্রগতি
এদিকে জানা যায়, এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আহমেদ রাকিব ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর সাব্বির হত্যা মামলার আসামি। এ বিষয়ে শাহবাগ থানা পুলিশের এস আই স্বপন মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন তারা বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমরা ভিডিওটি দেখেছি। আমরা ঘটনার সত্যতার জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেব।’
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন প্রশংসা পেলেও, ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
