ছাত্রনেতা নাঈম উদ্দীনের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সংবাদ সম্মেলন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা নাঈম উদ্দীনের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। সংগঠনটি দাবি করেছে, সারা দেশে পুলিশ বাহিনীর নিপীড়নমূলক আচরণ জনগণের ওপর মোরাল পুলিশিংয়ের ধারাবাহিকতা মাত্র। বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতারা এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
হামলার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অমল ত্রিপুরা। বক্তব্যে নাঈম উদ্দীনের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানানো হয়। উল্লেখ করা হয়, ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে হলে ফেরার সময় পুলিশি হয়রানির শিকার হন তিনি। যদিও পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো রকম বেআইনি কাজের প্রমাণ বা অভিযোগ পায়নি। এ সময় নাগরিক অধিকার বিষয়ে পুলিশকে তিনি কিছু প্রশ্ন করলে পেছন থেকে পুলিশের কয়েকজন সদস্য তাঁকে হঠাৎ আক্রমণ করেন। তাঁদের আক্রমণে তিনি আহত হন। এই ঘটনাকে নাগরিক অধিকার, বাক্স্বাধীনতা এবং দেশের বিদ্যমান আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
পুলিশ কাঠামোয় পরিবর্তনের অভাব
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, পুলিশ–কাঠামোয় মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ বাহিনীর তীব্র গণবিরোধী অবস্থানের পরে গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল, পুলিশ বাহিনীতে সংস্কার হবে এবং স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠিত হবে। পুলিশ জনগণের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে বলপ্রয়োগ করবে না। কিন্তু পুলিশ–কাঠামোয় মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি। জুলাই ও এর পরবর্তী সময়ে পুলিশ বাহিনীর কোনো অপরাধের সুষ্ঠু জবাবদিহিও নিশ্চিত করা হয়নি।
গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের ছয়টি দাবি
গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সংবাদ সম্মেলন থেকে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো:
- সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে ও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।
- অভিযুক্ত ডিসি মাসুদসহ সারা দেশে হেনস্তাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং তদন্তপ্রক্রিয়া চলাকালীন ডিসি মাসুদসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করতে হবে।
- নিজের আওতাবহির্ভূত এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন সংবিধানবিরোধী বক্তব্য দিয়ে পুলিশি হয়রানির প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীকে ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।
- মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
- পার্ক ও উদ্যানে সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত এবং আড্ডা দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা
সংবাদ সম্মেলন শেষে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের ওপর একের পর এক পুলিশি হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বৃহস্পতিবারের মধ্যে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রদান করবে এবং পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেবে বলে জোটের নেতাদের আশ্বাস দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সহসভাপতি নাঈম উদ্দীন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল ও সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক নুজিয়া হাসিন রাশা এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক।
