ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে পুনর্বিবেচনা: সরকার গঠন করবে বিশেষ কমিটি
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে কমিটি গঠন করবে সরকার

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে পুনর্বিবেচনা: সরকার গঠন করবে বিশেষ কমিটি

রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ নিয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য: সময় দিন, আমরা আলোচনা শুরু করেছি

'সাত কলেজ নিয়ে তড়িঘড়ি করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ করা হয়েছে'—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'সাত কলেজ নিয়ে তড়িঘড়ি করেছে কী করেনি, এটি একটি কমিটি করে আবার পর্যালোচনায় আনা হচ্ছে। আমাদের সময় দেন। সাত কলেজ নিয়ে এখনও নথি দেখার সুযোগ হয়নি। আমরা মাত্র আলোচনা শুরু করেছি।'

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গঠন ও অধ্যাদেশ

উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজ—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ—নিয়ে 'ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি' নামে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময় তড়িঘড়ি করে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত এই সাত কলেজের স্বকীয়তা ঠিক রেখে কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। কলেজগুলোর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়।

অধ্যাদেশের বিধান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলেই ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠন করা হয়। রাজধানী ঢাকার সাতটি কলেজে আগের মতোই বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স ও ডিগ্রির লেখাপড়া চলবে। যেসব কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ছিল, সেগুলোও থাকবে। তবে, কেন্দ্রীয়ভাবে মূল ক্যাম্পাসেও পরিচালিত হবে অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম।

সরকারের এই নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির গঠন প্রক্রিয়া, অধ্যাদেশের বাস্তবায়ন, এবং শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণের দিকে মনোনিবেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার এই বিষয়ে সতর্ক ও গভীরভাবে বিবেচনা করতে চায়, যা উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।