এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৩ হাজার ৫৫৯ পদে ৭৮ হাজার ৭১১ আবেদন
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ১৩ হাজার পদে ৭৮ হাজার আবেদন

এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৩ হাজার ৫৫৯ পদে ৭৮ হাজার ৭১১ আবেদন

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের জন্য ১৩ হাজার ৫৫৯টি শূন্য পদে ৭৮ হাজার ৭১১ জন শিক্ষক আবেদন করেছেন। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে।

আবেদনের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া

এনটিআরসিএ গত ২৯ জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এবং ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, আবেদনের সময়সীমা এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। প্রার্থীরা ২৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ফি জমা দিতে পারবেন।

সর্বোচ্চ আবেদনের পদসমূহ

এনটিআরসিএর তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে। ৩ হাজার ৮৭২টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ২৬ হাজার ৮২৬ জন শিক্ষক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে, যেখানে ৩ হাজার ৯২৩টি পদে আবেদন করেছেন ১৯ হাজার ৮৩৮ জন। তৃতীয় সর্বোচ্চ আবেদন ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে, ৬২৭টি শূন্য পদে আবেদন করেছেন ৬ হাজার ৮২ জন।

অন্যান্য পদের আবেদনের পরিসংখ্যান

  • ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ: ২০২টি পদে ১,২৩৩ জন
  • কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ: ৩৪টি পদে ৫৩৩ জন
  • আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ: ২১৯টি পদে ১,৫১৮ জন
  • ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ: ৫৮৪টি পদে ৫৫০ জন
  • উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের অধ্যক্ষ: ৫১১টি পদে ৫,৬৩০ জন
  • উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের অধ্যক্ষ: ২৫৭টি পদে ৩,১৮০ জন
  • বিএম কলেজের অধ্যক্ষ: ১১০টি পদে ৭১২ জন

পরীক্ষার পদ্ধতি ও বিষয়

নিয়োগের জন্য ১০০ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। এতে ৮০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক লিখিত পরীক্ষা, ১২ নম্বরের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং ৮ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত। লিখিত পরীক্ষায় ১ ঘণ্টায় ৮০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, যেখানে সঠিক উত্তরে ১ নম্বর এবং ভুল উত্তরে ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে।

পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি, মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তি, সাধারণ জ্ঞান, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা থেকে প্রশ্ন থাকবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও বিষয়ভিত্তিক মৌলিক জ্ঞানের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

স্বয়ংক্রিয় নিয়োগ প্রক্রিয়া

এনটিআরসিএ জানিয়েছে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর এবং প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রমের ভিত্তিতে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মেধা অনুসারে চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশ করা হবে। কোনো প্রকার তদবির নিয়োগের ক্ষেত্রে অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

গত ২৭ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এনটিআরসিএকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, উপাধ্যক্ষ, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার নিয়োগের ক্ষমতা দিয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহপ্রধান নিয়োগ দেওয়া হত প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির মাধ্যমে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে এই নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এনটিআরসিএ ২০০৫ সাল থেকে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার আয়োজন করছে এবং ২০১৬ সাল থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগের প্রার্থী নির্বাচন ও নিয়োগ সুপারিশ করে আসছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক।