গ্রামের প্রতিকূলতা থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং: আলী হোসেনের অদম্য যাত্রা
প্রথম আলো ট্রাস্টের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে মো. আলী হোসেন তাঁর ছোটবেলার গল্প শোনান। তিনি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কেদারনগর গ্রামে বড় হয়েছেন, যা উপজেলা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ২০০১ সালে কাশিপুর কেদারনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়।
শিক্ষার প্রাথমিক সংগ্রাম
আলী হোসেন বলেন, "আমি যে সময় পড়েছি, আমাদের গ্রামে শিক্ষিত মানুষ খুব কম ছিল। তখন কাউকে দেখে অনুপ্রাণিত হওয়ার বা বড় হওয়ার মতো কেউ ছিল না।" প্রাথমিক স্কুল শেষ করে তিনি হাই স্কুলে ভর্তি হন, যেখানে শিক্ষকদের কাছ থেকে জীবনের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে ধারণা পান।
এসএসসিতে সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার পরও তিনি সায়েন্স, আর্টস বা কমার্সের পেশাগত সুযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাননি। তিনি শুধু ভালো ফলাফলের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। স্কুলের শিক্ষকদের পরামর্শে তিনি সায়েন্স গ্রুপ বেছে নেন এবং যশোর ক্যান্টনমেন্টে ভর্তি হন একজন ভাইয়ার দেখাদেখি।
কলেজে স্বপ্নের সূচনা
কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই আলী হোসেনের পেশাগত স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং লাইনে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করেন এবং সফলভাবে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করেন। তাঁর কথায়, "কলেজ লেভেল থেকে আমি গোল সেট করি যে ইঞ্জিনিয়ারিং লাইনে যাব।"
পারিবারিক আনন্দ ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন
পেশাগত জীবনে প্রবেশের পর তাঁর পরিবার ও গ্রামবাসী অত্যন্ত খুশি। আলী হোসেন বলেন, "আব্বু-আম্মু এবং আমার গ্রামবাসী সবাই অনেক খুশি।" তাঁর পরবর্তী স্বপ্ন হলো উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া এবং দেশের জন্য আরও অবদান রাখা।
আর্থিক সংকট ও মোটিভেশন
পড়াশোনার সময় আর্থিক সমস্যা তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল। এসএসসির পর তিনি চিন্তিত ছিলেন যে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবেন কিনা। এই সময়ে তাঁর মামারা আর্থিক সহায়তা দেন। পরে প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি শাহ আলম সনির মাধ্যমে শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা হয়, যা তাঁর যাত্রাকে ত্বরান্বিত করে।
তরুণদের জন্য পরামর্শ
আলী হোসেন তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, "পড়ালেখা ঠিক রাখলে আর্থিক সমস্যা কাটিয়ে উঠা সম্ভব। লক্ষ্য ঠিক রেখে এগিয়ে যাও, কোনো না কোনো ব্যবস্থা হবেই।" তিনি আরও পরামর্শ দেন যে প্রাইমারি ও হাই স্কুল পর্যায়ে নিজের আগ্রহ বুঝে সায়েন্স, আর্টস বা কমার্স গ্রুপ বেছে নেওয়া উচিত।
সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি প্রথম আলো ট্রাস্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আলী হোসেনের গল্পটি অদম্য মেধাবী তহবিলের সাফল্যের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।
